গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই ঝড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ার পাশাপাশি স্কুল, দোকানপাট ও বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ও তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার রাত আড়াইটা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত উপজেলার ওপর দিয়ে এই তীব্র ঝড় ও অতি ভারী বর্ষণ হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের তাণ্ডবে পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পৌরশহরের মীরগঞ্জ বাজারে একটি বিশাল আকারের বটগাছ হেলে পড়ে ১০-১২টি দোকানঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া সুন্দরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ওপর আরেকটি পুরোনো বটগাছ ভেঙে পড়ায় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষসহ ৪টি ক্লাসরুম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের সঙ্গে ভারী বৃষ্টির কারণে কৃষকের অবশিষ্ট পাকা ধান ও পাটের ক্ষেত তলিয়ে গেছে, যার ফলে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস) জানিয়েছে, ঝড়ে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ১২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে, ৬টি খুঁটি হেলে পড়েছে এবং অন্তত ৩০টি স্পটে তার ছিঁড়ে গেছে। এছাড়া শতাধিক স্থানে লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়েছে এবং ৬টি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সুন্দরগঞ্জ পবিসের মোট ২১টি টেকনিক্যাল টিম কাজ শুরু করেছে এবং সদর দপ্তর থেকে নতুন খুঁটি আনা হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ পবিসের ডিজিএম মো. আব্দুল বারী জানান, "ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অত্যন্ত ব্যাপক। বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে।"
এদিকে উপজেলার সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব