ময়মনসিংহের গৌরীপুরে গবাদিপশুর মাঝে ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ (এলএসডি) ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত পশুর সংখ্যা, ঘটছে মৃত্যুর ঘটনা। তবে এই মহামারি প্রতিরোধে উপজেলায় ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতি মাসে ৪০ হাজার ভ্যাকসিনের চাহিদার বিপরীতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ মাত্র ২৫০ থেকে ৩০০টি ভ্যাকসিন পাচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলার মাওহা, অচিন্তপুর, বোকাইনগর ও সহনাটী ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, ঘরে ঘরে গরু এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্ত পশুর শরীরে ফোসকা পড়া, পা ফুলে যাওয়া, গলাতে ঘা এবং চামড়ার নিচে পচন ধরার মতো একাধিক জটিল সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সরকারি সহযোগিতা না পেয়ে প্রান্তিক খামারিরা পল্লী চিকিৎসকদের ওপর ভরসা করতে বাধ্য হচ্ছেন। মাওহা ইউনিয়নের খলদবাড়ি গ্রামের রফিকুল ইসলাম, আব্দুল বারেকসহ বেশ কয়েকজন কৃষকের মূল্যবান গরু ও বাছুর মারা গেছে বলে জানা গেছে।
খামারিরা চরম লোকসানের মুখে পড়ে সরকারিভাবে দ্রুত বিনামূল্যে ভ্যাকসিন সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মুহাম্মদ শিহাব উদ্দিন জানান, "এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ এবং সবখানেই এটি ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলায় ভ্যাকসিনের প্রচণ্ড সংকট রয়েছে। গত তিন মাসে এলএসডিতে আক্রান্ত হয়ে এ অঞ্চলে প্রায় ২৫০টি গবাদিপশু মারা গেছে।" তিনি আরও জানান, উপজেলা পরিষদের এডিপি খাত থেকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন বিতরণের জন্য একটি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে, যা অনুমোদিত হলে খামারিদের সংকট কিছুটা লাঘব হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পা জানান, প্রাণিসম্পদ বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রাণিসম্পদ উপসহকারী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মশা, মাছি ও লালার মাধ্যমে এই ভাইরাস দ্রুত ছড়ায়। আক্রান্ত পশুকে সুস্থ পশু থেকে আলাদা রাখা, নিয়মিত নিমপাতা বা জীবাণুনাশক দিয়ে ধৌত করা এবং মশা-মাছির কামড় থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
উল্লেখ্য, উপজেলায় মোট ৬৫ হাজার ৩৭০টি গরু ও ৩৯ হাজার ৮২৩টি ছাগল রয়েছে, যার মধ্যে আসন্ন কোরবানির জন্য ৪ হাজার ৩২২টি গরুসহ বিপুল সংখ্যক পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এই অবস্থায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কোরবানির পশুর হাটে ও খামারিদের ওপর বড় ধরণের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব