পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) উপাচার্যের অপসারণ দাবিকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলন এখন প্রশাসনিক সংকট থেকে সংঘাতপূর্ণ দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে। দীর্ঘদিনের ভিসি–প্রো ভিসি বিরোধের জেরে ক্যাম্পাসে হামলা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, মামলা ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রগুলো বলছে, গত ডিসেম্বরের ৫৭তম রিজেন্ট বোর্ড সভা এবং পরবর্তী পদোন্নতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই মূল বিরোধের সূত্রপাত। অভিযোগ রয়েছে, বোর্ডে গৃহীত সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করে অফিস আদেশের মাধ্যমে ভিন্নভাবে কার্যকর করা হয়। প্রো-ভিসি ঘনিষ্ঠ শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের দাবি, ২৪ জনের পদোন্নতি ও পর্যায়োন্নয়নের মধ্যে ২১ জনের প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে মাত্র তিনজনকে অনুমোদন দেওয়া হয়, যা তারা নিয়মবহির্ভূত বলে মনে করছেন।
এ ঘটনার পর থেকেই প্রশাসনের ভেতরে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অন্যদিকে ভিসি পক্ষের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে প্রো-ভিসি সমর্থকরা একে “একতরফা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এদিকে নতুন কমিটি গঠন, ব্যক্তিগত ফাইল পর্যালোচনা এবং পদোন্নতি পুনর্বিবেচনার ঘটনাগুলোও বিরোধকে আরও তীব্র করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ ও হেনস্তার অভিযোগও উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, এক ঘটনায় রেজিস্ট্রারকে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করতে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। যদিও অভিযুক্ত পক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। চলমান এ দ্বন্দ্বের প্রভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ, একাডেমিক পরিবেশ ও প্রশাসনিক সমন্বয় ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব