মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেছেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকগুলোতে পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষ করা গেলে তা দেশের মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে হতে পারে নতুন দৃষ্টান্ত।
মৎস্য অধিদপ্তরের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় আজ বুধবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় লেকে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
আমিন উর রশিদ বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৮০ একর জলাশয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ উৎপাদন করা হলে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বছরে কয়েক কোটি টাকার আয় করা সম্ভব হবে। এতো বড় জলাশয় থাকা সত্ত্বেও অতীতে এ সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আজ প্রায় ৩৯৫ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন মাছ চাষ না হওয়া এবং বাইরের পানির সঙ্গে সংযোগ থাকায় লেকগুলোতে রাক্ষুসে মাছ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ছোট পোনার পরিবর্তে তুলনামূলক বড় আকারের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে, যাতে সহজে নষ্ট না হয় এবং টিকে থাকতে পারে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করতে হলে কৃষি ও মৎস্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ধান, পাট কিংবা মাছ— কোনো ক্ষেত্রেই এক ইঞ্চি জমি বা জলাশয় অনাবাদি রাখা যাবে না। পরিকল্পিত ও প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের মাধ্যমেই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, দেশের ৭৫ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কৃষকের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। এ লক্ষ্যে সরকার কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, স্বল্প সুদে কৃষি ঋণসহ বিভিন্ন কৃষিবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে গবাদি পশুর কোনো সংকট নেই উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্ত পথে অবৈধভাবে গবাদি পশু প্রবেশ ঠেকাতে সরকার, বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব দেলোয়ার হোসেন ও মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় লেকে প্রজাতিভিত্তিক মোট ৩৯৫ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ছিল রুই ১৫৮ কেজি, কাতলা ১১৮ দশমিক ৫ কেজি, মৃগেল ৭৯ কেজি এবং কালিবাউস ৩৯ দশমিক ৫ কেজি।
আজকালের খবর/বিএস