গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার ৬ নং ঘাঘরকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিতর্কিত সহকারী শিক্ষক তপতী বাড়ৈর স্থায়ী বদলি ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। রবিবার সকালে বিদ্যালয় সংপাশের সড়কে ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক অভিভাবক অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীরা আল্টিমেটাম দিয়ে জানান, আগামী ৩ দিনের মধ্যে ওই শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বদলি করা না হলে তারা তাদের সন্তানদের এই বিদ্যালয় থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেবেন।
আন্দোলনরত অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষক তপতী বাড়ৈ চরম অদক্ষ, স্বেচ্ছাচারী এবং ক্লাস ফাঁকি দেওয়াসহ শিক্ষার্থীদের সাথে অমানবিক আচরণ করেন। শিক্ষা অফিসের তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা মেলার পরও তাঁর স্থায়ী বদলি না হওয়ায় তারা পুনরায় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই শিক্ষক তাঁর বদলি ঠেকাতে এবং পূর্বের আন্দোলনের খবর প্রকাশের জেরে প্রধান শিক্ষক, সাংবাদিক, উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিসারসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ওই শিক্ষককে শাস্তিস্বরূপ লঘু দণ্ড এবং স্থায়ী বদলির সুপারিশ করেছিলেন। বদলির জন্য শূন্য বিদ্যালয়ের তালিকাও পাঠানো হয়েছে। তবে আইনি জটিলতা ও জেলা অফিসের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিষয়টি ঝুলে রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখর রঞ্জন ভক্ত বলেন, "বিভাগীয় মামলায় তাঁর স্থায়ী বদলির জন্য জেলা অফিস থেকে ৩টি শূন্য বিদ্যালয়ের তালিকা চাওয়া হয়েছিল, যা আমরা অনেক আগেই পাঠিয়েছি। এখন কেন স্থায়ী বদলি হচ্ছে না, সেটি জেলা অফিসের বিষয়।"
এ ব্যাপারে জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব