নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ধানের কম দামে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। একদিকে মাঠজুড়ে সোনালি ধানের সমারোহ, অন্যদিকে কালো মেঘ আর বাজারের অস্থিরতা কৃষকদের মনে বাড়িয়ে তুলছে হতাশা। কৃষকদের অভিযোগ, ধান বিক্রি করেও উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না তারা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ডিমলা উপজেলায় মোট ১১ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৯ হাজার ৯৩৬ মেট্রিক টন। তবে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাঠ পর্যায়ে ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমিতেই ধান পেকে গেছে। কোথাও কৃষকরা মেশিন দিয়ে ধান কাটছেন ও মাড়াই করছেন, আবার কোথাও বৃষ্টির আশঙ্কায় ধান কাটতে সাহস পাচ্ছেন না। অনেকের আশঙ্কা, হঠাৎ বৃষ্টি হলে কাটা ধান ভিজে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
কৃষকদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে বীজ, সার, ডিজেল, সেচ ও শ্রমিকের খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে কয়েকগুণ। তাদের হিসাবে, প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ পড়ছে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। অথচ বাজারে সেই ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মণ দরে। এতে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।
বাবুরহাট গ্রামের কৃষক ঘেটে বলেন,এক সপ্তাহ আগেই ধান পেকে গেছে। কিন্তু এখন কেটে ফেললে যদি বৃষ্টি হয় আর শুকাতে না পারি, তাহলে সব নষ্ট হয়ে যাবে। তাই ঝুঁকি নিতে পারছি না।
খগা খরিবাড়ি গ্রামের কৃষক হবিবর বলেন,ধানের দাম কম, কিন্তু খরচ অনেক বেশি। বীজ, সার, সেচ, শ্রমিক, কাটা ও মাড়াই মিলিয়ে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। অথচ ধান বিক্রি করে মিলছে মাত্র ১০ হাজার টাকা। আলু আর তামাকে আগেই লোকসান হয়েছে, এখন ধানেও একই অবস্থা। এভাবে চললে কৃষকরা বাঁচবে কিভাবে?
ডিমলা সদর ইউনিয়নের কৃষক আবু তালেব বলেন, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বেশি দামে সার ও তেল কিনতে হয়েছে। সরকার প্রতিমণ ধানের দাম প্রায় ১ হাজার ৪শ’ টাকা নির্ধারণ করলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৮শ’ টাকার মতো। কৃষক লোকসান দিলেও লাভবান হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী আর মজুদদাররা। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে চাষাবাদ ছেড়ে দিতে হবে।
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না বলেন,অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এড়াতে ৮০ শতাংশ ধান পাকলেই কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ধান ভালোভাবে শুকিয়ে সরকারি গুদামে বিক্রি করলে কৃষকরা লাভবান হবেন। কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের জন্য ইতোমধ্যে খাদ্য বিভাগের কাছে তালিকাও পাঠানো হয়েছে।
কৃষকদের দাবি, সরকার যেন সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান ক্রয় করে এবং বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। তাহলেই তারা চলমান ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
আজকালের খবর/বিএস