গণতান্ত্রিক সমাজে মত প্রকাশের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ সেই মত প্রকাশের দায়িত্ববোধ । বিশেষ করে যারা জননেতা, জনপ্রতিনিধি কিংবা টেলিভিশনের আলোচিত মুখ- তাদের প্রতিটি শব্দই সাধারণ মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। তাই ধর্ম, বিশ্বাস ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে মন্তব্য করার সময় আরও বেশি সংযম, প্রজ্ঞা ও সম্মানবোধ প্রয়োজন।
সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে একজন রাজনীতিক যাকাত ও চাঁদাবাজি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। এ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই এ বক্তব্যকে কেবল রাজনৈতিক বিতর্ক হিসেবে দেখছেন না। যাকাত ইসলামে একটি ফরজ ইবাদত এবং মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি বিধান । এটি শুধু ধর্মীয় অনুশাসন নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও দারিদ্র্য বিমোচনের এক মানবিক ব্যবস্থা।
অন্যদিকে চাঁদাবাজি সমাজে ভয়, বিশৃঙ্খলা ও অন্যায়ের প্রতীক। ভিন্নমত থাকতেই পারে, রাজনৈতিক সমালোচনাও হতে পারে। কিন্তু কোনো ধর্মের মৌলিক অনুশাসন নিয়ে বক্তব্য দেওয়া কখনোই দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়।
বাংলাদেশ বহু ধর্ম, বহু সংস্কৃতি ও সহাবস্থানের দেশ। এখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে বসবাস করে আসছে। তাই এমন কোনো বক্তব্য কাম্য নয়, যা সমাজে বিভাজন, বিদ্বেষ কিংবা অস্থিরতার জন্ম দেয়।
আজ মানুষের প্রত্যাশা- রাজনীতি হোক শালীনতার, নেতৃত্ব হোক প্রজ্ঞার, আর জনপরিসরের ভাষা হোক দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল। কারণ, অসাবধানী একটি বাক্যও সমাজে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা কখনোই অন্যের বিশ্বাসকে আঘাত করার স্বাধীনতা হতে পারে না।
সবশেষে, ব্যক্তি বা দলের ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের মনে রাখতে হবে- ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবিকতা ও পারস্পরিক সম্মান রক্ষা করা একটি সভ্য সমাজের অপরিহার্য শর্ত।
লেখক: একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মিডিয়া কর্মকর্তা
আজকালের খবর/বিএস