দেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। প্রায় এক মাস ধরে মহাপরিচালক ছাড়াই চলছে এ প্রতিষ্ঠানটি। পদটি খালি থাকায় সাময়িক প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও দ্রুত স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার প্রত্যাশা জোরালো হচ্ছে। গত ২ এপ্রিল সাবেক মহাপরিচালক অবসরে যাওয়ায় পদটি শূন্য হয়। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেখা দিয়েছে ধীরগতি। প্রশাসনিক কিছু কার্যক্রম রয়েছে অনুমোদনের অপেক্ষায়।
এদিকে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা বিরাজ করছে। অনেকেই মনে করছেন নেতৃত্বের অভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি তৈরি হয়েছে। যার প্রভাব পড়ছে সার্বিক কার্যক্রমে। গবেষণা কার্যক্রমও কিছু ক্ষেত্রে স্থবির হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়নেও বিলম্ব হচ্ছে। তবে গবেষণা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের উদ্যোগে সীমিত পরিসরে কাজ চলমান রয়েছে। চলমান প্রকল্পগুলো যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি একটি সাময়িক রূপান্তরকাল। যেখানে দায়িত্বশীলতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা চলছে।
নতুন মহাপরিচালক নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যা অনেকের মতে ইতিবাচক। মেধাবী এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে। একই সঙ্গে নীতিমালা ও পদোন্নতি কাঠামো নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে সেটিকে সংস্কার ও আধুনিকায়নের সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করছেন গবেষণাভিত্তিক মূল্যায়ন। স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে ব্রি আরও কার্যকর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে। নতুন নেতৃত্ব এলে প্রশাসনিক গতি বাড়বে। দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন আরও সুসংগঠিত হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে আশ্বাস দিয়েছে যে মহাপরিচালক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্রুতই নতুন নেতৃত্ব আসবে। এতে প্রশাসনিক গতি ফিরে আসবে। নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে। চলমান প্রকল্পগুলো নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবে। উল্লেখ্য দেশের ধান উৎপাদন বৃদ্ধি। নতুন উচ্চফলনশীল ও সহনশীল জাত উদ্ভাবন এবং কৃষি প্রযুক্তি উন্নয়নে ব্রির অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়ও এ প্রতিষ্ঠানের গবেষণা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সচল রাখা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা দ্রুত স্বচ্ছ এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট আবারও পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরে এসে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।
আজকালের খবর/বিএস