বুধবার ২২ এপ্রিল ২০২৬
হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাসা তৈরির সুনিপূণ কারিগর, বাবুই পাখি
প্রকাশ: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০৪ পিএম  আপডেট: ২২.০৪.২০২৬ ৪:১১ পিএম  (ভিজিট : ১০৯)
সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা এই গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বুদ্ধিমান ও শিল্পী বাবুই পাখি। বাবুই পাখি গ্রামবাংলার ছোট্র একটি পাখির নাম। এ পাখি যেমন বুদ্ধিমান তেমনি শিল্পির মতো অপরুপ তার কারুকার্য। 

বাবুই পাখি দেখতে অনেকটা চুড়ুই পাখির মত। তবে আকারে একটু বড়। এরা ঝাঁক বেঁধে তাল গাছের চুড়ায় বসবাস করে, এরা খুব পরিশ্রমী পাখি। গ্রাম গঞ্জে এই বাবুই পাখি আর আগের মত চোখে পড়ে না।

বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চুড়াই, কুঁড়ে ঘরে থাকি কর শিল্পের বড়াই, আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পড়ে তুমি কত কষ্ট পাও রোধ, বৃষ্টি, ঝড়ে।” বাবুই হাসিয়া কহে,সন্দেহ কি তায়? কষ্ট পাই, তবু থাকি নিজের বাসায়।পাকা হোক, তবু ভাই, পরের ও বাসা, নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর, খাসা। রজনীকান্ত সেনের কবিতার সেই বাবুই পাখি আজ হারিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে এখন আর আগের মতো এই পাখি দেখা যায় না। এক শ্রেনীর লোক শিকার করছে বাবুই পাখি। অন্যদিকে খাঁচায় বন্দি করে বেচা কেনাও হচ্ছে এ পাখি। হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম গঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বাবুই পাখির বাসা। বাবুই পাখিরা সাধারণত তাল গাছের চুড়ায় বাসা বাঁধে। এই বাবুই পাখির বাসা গ্রাম গঞ্জের একটি ঐতিহ্যবাহী দৃশ্য। বাবুই পাখি নিয়ে কবি সাহিত্যিকরা অনেক গল্প ও কবিতা লিখেছেন। তাল গাছের পাতার নিচের অংশে বাবুই পাখি বাসা তৈরী করে।

বাবুই পাখিদের বাসা বানানোর নির্মাণ শৈলী, কারিগরী দক্ষতা দেখে আধুনিক যুগের প্রকৌশলীদেরও ভাবিয়ে তোলে। তাল পাতার ছেড়া তন্তু দিয়ে তারা বাসা বাঁধে। পাতা ছিড়ে এনে সুখ্য ভাবে ঠোঁট দিয়ে তা গাঁথুনী করে বাসা তৈরী করে, তাই এর নাম শিল্পী বাবুই পাখি। ঝড় বৃষ্টিতেও সেই বাসা ভেঙ্গে পড়ে না। তাল পাতার বাসায় কোন ভাবেই জল ঢোকে না। এ বাসায় প্রবেশ ও বাহির হওয়ার জন্য রয়েছে একাধিক দরজা। এ এক অদ্ভুত দৃশ্য। অন্ধকার ঘরকে কিভাবে আলোকিত করতে হয় তাও বাবুই পাখিরা ভালো ভাবেই জানে। 

বাবুই পাখির বাসার ভিতর আধুনিক যুগের মত লাইটের ব্যবস্থা আছে। বাসার ভেতর একটু গোবর রাখা হয়, তার ভেতর জোনাকি পোকার মাথাটি ঢুকিয়ে দেয়।ফলে জোনাকির আলোতে বাসা আলোকিত হয়ে উঠে। গ্রাম গঞ্জের তাল গাছে এই বাবুই পাখির দেখা মেলে।এই দৃশ্য সাধারণ বাংলাদেশের প্রতিটি পল্লি গ্রামে দেখা যায়। 

পরিবেশের বিপর্যয় আর নগরায়নের কারণে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলা পাখি আজ বিলুপ্তের পথে। তাছাড়া ক্ষেত খামারে বিভিন্ন রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারের ফলে বাবুই পাখি রহস্যজনকভাবে মারা যাচ্ছে। তাছাড়া ছোট শিশুদের আগ্রহজনিত কারণে তারা বাবুই পাখির বাসা গুলো ভেঙে দিচ্ছে ঢিলা ছুড়ে। এখন সময়ের দাবি প্রকৃতিপ্রেমী পাখি বাবুইকে টিকেয়ে রাখা সকলের নৈতিক দায়িত্ব। ঐতিহ্যবাহী পাখির বাসা বানানোর এই কারিগরকে ফিরিয়ে আনতে সকলকে এক সঙ্গে চেষ্টা করতে হবে।

আজকালের খবর/রাশেদুল মিলন







আরও খবর


Advertisement
সর্বশেষ সংবাদ
হাম উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু
দৌলতপুরে কৃষকদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত
এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
শিল্পখাতে নতুন ব্যাংকিং দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন
কুমিল্লায় এসএসসি কেন্দ্রে ঢুকে লাইভ, তোপের মুখে এমপি সেলিম ভূঁইয়া
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে মঞ্চস্থ হলো নাটক আলোর মিছিলে ভালোবাসা
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft