মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল ২০২৬
প্রধান কর্মকর্তাদের ছাড়াই চলছে দুমকি উপজেলা, জনসাধারণের ভোগান্তি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২১ পিএম  আপডেট: ২১.০৪.২০২৬ ৬:১৮ পিএম  (ভিজিট : ৯৯)
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে প্রধান কর্মকর্তা না থাকায় প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এতে করে সরকারি সেবা কার্যক্রম ব্যহত হওয়ার পাশাপাশি উন্নয়ন কাজের গতি কমে যাওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদটি প্রায় এক মাস ধরে শূন্য রয়েছে। সর্বশেষ ইউএনও ফরিদা সুলতানা গত ২৬ মার্চ বদলিজনিত কারণে দায়িত্ব ত্যাগ করেন। বর্তমানে পার্শ্ববর্তী পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইউএনও রওজাতুন জান্নাত অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে দুমকির প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি করছেন। তবে তিনি সপ্তাহে সীমিত সময় উপস্থিত থাকায় নীতিনির্ধারণী ও জরুরি অনেক কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউএনও না থাকায় ভূমি, ভ্রাম্যমাণ আদালত, জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে । একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন ও তদারকিতেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে।

এদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদটি প্রায় এক বছর ধরে শূন্য রয়েছে। গত বছরের ১৬ জুলাই বদরুন নাহার ইয়াসমিনের বদলির পর থেকে মির্জাগঞ্জ উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এতে শিক্ষা খাতে বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ সময়মতো সম্পন্ন হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার পদটিও গত বছরের জুন মাস থেকে শূন্য রয়েছে। সর্বশেষ কর্মকর্তা কমল গোপাল দে বিদায়ের পর থেকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার খাদ্য কর্মকর্তা জাকির হোসেন অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

পরিসংখ্যান অফিসেও দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী কর্মকর্তা নেই। উজ্জ্বল কৃষ্ণ ব্যাপারীর বিদায়ের পর গত তিন বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মশিউর রহমান। এতে সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও হালনাগাদ কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পদটি গত বছরের এপ্রিল থেকে শূন্য রয়েছে। সাইফুল ইসলামের বিদায়ের পর থেকে মির্জাগঞ্জ উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে মৎস্য খাতে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও মাঠ পর্যায়ের তদারকি ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলার নাসিমা কেরামত আলী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী মাকসুদুর রহমান বলেন, জরুরি কাগজপত্রে স্বাক্ষরের জন্য সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিয়মিত না থাকায় কাজের গতি অনেক কমে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় দাপ্তরিক সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে। এতে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং সরকারি সেবার মান উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও রওজাতুন জান্নাত বলেন, একসঙ্গে দুটি উপজেলা পরিচালনা করতে গিয়ে কিছুটা সীমাবদ্ধতা থাকলেও চেষ্টা করছি সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মো. শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান, দুমকিতে ইউএনও পদ শূন্য থাকার বিষয়টি ইতোমধ্যে বিভাগীয় কমিশনারকে জানানো হয়েছে। শিগগিরই পদায়নের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান হবে বলে আশা করছি। এছাড়া অন্যান্য দপ্তরের শূন্য পদগুলোর বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে সচেতন মহল দ্রুত এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থায়ী নিয়োগ দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

আজকালের খবর/রাশেদুল মিলন










Advertisement
সর্বশেষ সংবাদ
চট্টগ্রামে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ
টেকনাফে পাহাড়ি এলাকায় ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যা
মোহনা টিভি দখলের অপচেষ্টা: থানায় জিডি
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্লাস করলেন এমপি মনিরুল!
সোমবার থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াচ্ছে বিপিসি
সিরাজগঞ্জে হাম রুবেলা টিাকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন-স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft