সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ৪৫টি হাওরে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। গত ১২ থেকে ২৮ মার্চের ভারী বৃষ্টিতে ১৬টি হাওরের প্রায় ৪১০ হেক্টর জমির ধান শীষ বের হওয়ার সময় পানিতে নিমজ্জিত হয়। এর মধ্যে সবগুলি হাওরের অর্ধেকের বেশি ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি হাওরের বাঁধ কেটে কৃষকেরা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় কৃষক গণ বিভিন্ন হাওরে পাওয়ার পাম্প ও শেলু মেশিন দ্বারা পানি নিষ্কাশন করলেও বিধিবাম, এপ্রিলের শুরু থেকে প্রতিদিন ভারি বৃষ্টি, শিলা বৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত কৃষকের শত চেষ্টা ব্যর্থ করে নিচু জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে।
উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের জারারকোনা গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বার বলেন, বছরে এই সময়টাতে এমন ভারী বৃষ্টি হতে কখনো দেখিনি। বৃষ্টির পানি যেন আমাদের ফসলের কাল অইয়া দাঁড়াইছে। উপজেলা কৃষি বিভাগে যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দেখিয়েছে তার চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ বেশি। বাড়ির পাশের বিলে ৩৫ কেয়ার জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলাম। ধানের থোড় বের হওয়ার সময় বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। এখন জমিতে ৬ ফুট পানি।
জয়শ্রী ইউনিয়নের বাদে হরিপুর গ্রামের সফল কৃষক ছোটন তালুকদার বলেন, অনেক জমির পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। হাওরের পানির স্তর বেড়ে যাওয়ায় হারভেস্টার দিয়েও ধান কাটারও সুযোগ মিলছে না। এতে শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা ছাড়া কোনো উপায় নেই কৃষকদের। বর্তমানে ধান কাটার শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১১০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকায় পৌঁছেছে। অথচ বাজারে ধানের দাম ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা মন। ফলে ধান কাটার খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের।
কৃষকদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে শ্রমিক সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ধানের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ না করলে যেটুকু ফসল বাকি আছে সেইগুলো সময় মতো ঘরে তোলা সম্ভব হবে না। এতে চলতি বোরো মৌসুমে ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। অনেক কৃষকের নিচু জমিতে ফসল করায় তারা সবকিছু হারিয়ে পাগল প্রায়,অত্র এলাকার কৃষকদের একমাত্র বোরো ফসল কাঁচা ধান চোখের সামনে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকের মাথায় হাত। উঁচু জমির অর্ধেক কাঁচা পাকা ধান কাটতে গিয়ে শ্রমিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।
ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদ বিন খলিল রাহাত বলেন, অকাল বৃষ্টিতে উপজেলার ১৬১৭ একর জমির ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। ২০০০ একর জমির ধান ২ ফুট পানির নিচে নিমজ্জিত আছে। শ্রমিক ছাড়া ধান কাটার কোন বিকল্প নেই। গত সোমবার আমি মাঠে গিয়েছিলাম ধান কাটার শ্রমিকদের সাথে কথা বলেছি তারা আমাকে জানিয়েছে ১২০০ টাকা রোজে ধান কাটছেন। এমতাবস্থায় বাহির থেকে শ্রমিক আনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
আজকালের খবর/বিএস