রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল মোহনা টিভি দখলচেষ্টা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর প্রভাবশালী নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে গত কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তির উস্কানিতে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল রূপ নিচ্ছে। দফায় দফায় চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রভাব খাটানোর মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে প্রকৃত মালিকদের পক্ষে পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। জিডি নং ১০১১ তারিখ ১২-০৪-২০২৬।
জিডির সূত্র ধরে থানা পুুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পায় এবং বহিরাগতদের বের করে দেয়। বিষযটি নিয়ে সরকারের বিভিন্ন সংস্থাও তদন্ত করছে। জানা গেছে, সাবেকমন্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ মজুমদারের এক সময়ের পার্টনার ছিলেন দুই ব্যক্তি। এক পর্যায়ে তারা পার্টনারশিপের টাকা তুলে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে কামাল আহমেদ মজুমদার ও তার ছেলে প্রতিষ্ঠানের এমডি শাহেদ আহমেদ মজুমদার কারাবন্দি থাকার সুযোগে টেলিভিশনটি দখলের পাঁয়তারা করে একটি চক্র। বিষয়টি জানতে পেরে মালিকপক্ষ উচ্চ আদালতে রিট করেন। যার নম্বর ১১৮/২৬। উচ্চ আদালত ভূয়া কাগজপত্রের উপর স্ট্রে আদেশ দেন। তারপরও চক্রটি প্রতিষ্ঠানটি দখলে মরিয়া । চক্রটি বহিরাগত কিছু লোক সঙ্গে নিয়ে গত ১২ এপ্রিল মোহনা টিভি দখলের অপচেষ্টা করে। এ সময় মোহনায় কর্মরত সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী ও পুলিশের সহায়তায় তাদের দখলের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
মোহনায় কর্মরত কর্মচারীরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়; বরং এটি দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ওপর এভাবে দখলচেষ্টা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং আইনের শাসনের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ।
আজকালের খবর/বিএস