চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে কুমিল্লা জেলায় অন্তত ২৫০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অধিকাংশই বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।
সংস্থাটির সূত্র জানায়, জানুয়ারি মাসে ৭৯টি, ফেব্রুয়ারিতে ৬৫টি এবং মার্চে ৯৪টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জেলার ১৩টি ফায়ার স্টেশন থেকে মোট ২৩৮টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় প্রায় ৭ কোটি ৩০ লাখ ২৩ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২৩৮টি অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে ১০৭টি ঘটেছে বৈদ্যুতিক গোলযোগে। এছাড়া বিড়ি-সিগারেটের আগুন থেকে ২৪টি, চুলা থেকে ৩৫টি, গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ১১টি, গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ৭টি এবং মশার কয়েল থেকে ৯টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অন্যান্য কারণের মধ্যে শত্রুতামূলক অগ্নিসংযোগ, উত্তপ্ত ছাই ছড়িয়ে পড়া এবং অসতর্কতা রয়েছে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মোট অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ৪৪ শতাংশই বৈদ্যুতিক ত্রুটিজনিত। বাকি ঘটনাগুলোর পেছনে মানুষের অসচেতনতা বড় কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
এদিকে এপ্রিল মাসের শুরুতে চৌদ্দগ্রামে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং সম্প্রতি জেলার জাঙ্গালিয়া বাস টার্মিনালে একসঙ্গে তিনটি বাসে আগুন লাগার ঘটনা স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মার্চ মাসে লাকসাম, বুড়িচং ও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর, মাদরাসা ও দোকানপাটে একাধিক অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
জেলায় ১৭টি উপজেলার মধ্যে ১১ উপজেলায় ১৩টি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন রয়েছে। বাকি ৬ উপজেলায় এখনো কোনো স্টেশন নেই। ফলে দূরবর্তী এলাকা থেকে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমাতে বৈদ্যুতিক ও গ্যাস সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে ফায়ার এক্সটিংগুইশার রাখা জরুরি। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন ১০২ অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আজকালের খবর/ এমকে