সোমবার ২৫ মে ২০২৬
দশমিনায় জমি নিয়ে বিরোধ, ওসির বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ
প্রকাশ: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩২ পিএম   (ভিজিট : ৪৩৩)

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও  প্রতিপক্ষ অবৈধভাবে জমিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এঘটনায় দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। 

শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ১১ ঘটিকার সময় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী মোঃ জহিরুল ইসলাম সবুজ জানান, তার বাবা আলী আকবর খান এবং একই বাড়ির জাকির খানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধপূর্ণ ৩৩ ফুট জমির মধ্যে ২০ ফুট অংশ তার বাবা আলী আকবর খানের নামে রেকর্ডভুক্ত এবং পূর্বের সালিশের রায়েও তা উল্লেখ রয়েছে। জাকির খান ওই জমি বিক্রির উদ্দেশ্যে এক ক্রেতার কাছ থেকে বায়না গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে সেখানে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। এতে আলী আকবর খান বাধা দিলে বিষয়টি সালিশে গড়ায়। পরবর্তীতে ১৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখে আলী আকবর খান পটুয়াখালী দেওয়ানী আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত থেকে জাকির খানের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়। 

তবে অভিযোগ রয়েছে, মামলা চলাকালীন সময়েই জাকির খান প্রভাব খাটিয়ে ওই জমিতে বালু ফেলে দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় বাঁধা দিতে গেলে আলী আকবর খানকে থানায় ডেকে নিয়ে  তাকে ও তার ভাইকে দীর্ঘসময় বসিয়ে রাখা হয় এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে  চাঁদাবাজির মামলা দেখিয়ে গ্রেফতার করা হয় বলে অভিযোগ করেন জহিরুল ইসলাম সবুজ। পরবর্তীতে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। আমার বাবাব জেল-হাজতে থাকায় প্রতিপক্ষ দিন-রাত কাজ করে বিরোধপূর্ণ জমিতে অবৈধভাবে প্রাচির নির্মাণ কাজ করে। কয়েকদিন পর জামিনে মুক্ত হয়ে আলী আকবর খান পুনরায় আইনের আশ্রয় নেন। উক্ত বিরোধী সম্পত্তিতে পটুয়াখালী জেলা জজ আদালত নিষেধাজ্ঞা আদেশ দেন। 

সংবাদ সম্মেলনে আলী আকবর খান বলেন,আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জাকির খান সেখানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আমি একাধিকবার থানায় গেলে আমাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়, আর সেই সুযোগে তারা জমিতে কাজ করে। সম্প্রতি আদালত থেকে ‘স্টে অর্ডার’ এনে থানায় জমা দেওয়ার পর পুলিশ গিয়ে কাজ বন্ধ করতে বললেও, তারা পরে আবার গোপনে কাজ করে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আমি বিষয়টি ওসিকে জানালে তিনি বলেন,কাজ করলে মামলা দিতে। এর আগেও আমি জানালে আমাকে একাধিকবার গ্রেফতারের হুমকি দেয় ওসি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।” 

এদিকে জাকির খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি আমার জমিতে কাজ করছি। আকবর খান আমার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদাদাবি করে। আমি আদালত ও থানা থেকে কাজ বন্ধের নোটিশ পাইনি। 

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মোঃ হাচনাইন পারভেজ  জানান, “ওই জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। আকবর আলী খান প্রাথমিকভাবে জায়গার আকার-আকৃতি পরিবর্তন না করার একটি স্টে অর্ডার’ এনেছেন। আমরা একাধিকবার পুলিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করে এসেছি। তবে মাঝে মাঝে ফাঁকে ফাঁকে কাজ করার অভিযোগ শুনছি। কেউ যদি আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কাজ করে, সে ক্ষেত্রে অভিযোগ দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। আদালতের স্টে-অর্ডারকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে দিন রাত কাজ করার নেপথ্যে থানা পুলিশের সহযোগিতা পাচ্ছে এবং ভূক্তভোগী পরিবার অসহযোগিতা পাচ্ছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।









Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft