
সাতক্ষীরায় ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নিতে লাগবে ফুয়েল কার্ড। এমন সিদ্ধান্তের পর সমালোচনার মুখে ফের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হঠে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রিপন বিশ্বাস ও জেলা তথ্য কর্মকর্তা জাহারুল ইসলাম।
তারা জানিয়েছিলেন, আমরা একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হয়েছে।
ফুয়েল কার্ড সিদ্ধান্ত বাতিল খবরটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। এরপর রাতে ফুয়েল কার্ড বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন উল্লেখ করে আবারও নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রশাসন। এতে ছড়িয়ে পড়ে বিভ্রান্তি।
নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের কাছে জ্বালানি তেলের বিষয়ে অভিযোগ আসছে যে, একই ব্যক্তি একইদিন একাধিক ফিলিং স্টেশন থেকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে কালোবাজারি ও চোরাচালান কাজে জড়িত। অতিরিক্ত তেল মজুদ, কালোবাজারি এবং চোরাচালান রোধে জেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ফুয়েল কার্ডের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে যাতে একই ব্যক্তি একইদিন একাধিক ফিলিং স্টেশন থেকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে মজুদ রাখা, কালোবাজারি ও চোরাচালান না করতে পারে এবং সরকারি সিলিং মোতাবেক প্রত্যেক মোটরবাইকে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে।
এই উদ্যোগটি শুধুমাত্র স্থানীয় সমস্যা সমাধানের জন্য গ্রহণ করা হয়। ফুয়েল কার্ডের বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন বিধায় ফুয়েল কার্ড নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে অবহিত করা হলো।
এর আগে ২৫ মার্চ রাতে প্রশাসনের জারিকৃত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে কোনো ফিলিং স্টেশন বা ডিলার পয়েন্টে তেল দেওয়া যাবে না। তেল নেওয়ার সময় চালককে ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও ট্যাক্স টোকেন সঙ্গে রাখতে হবে। পাশাপাশি হেলমেট পরিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য জেলা প্রশাসকের সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। এই কার্ড ব্যতিত ফিলিং স্টেশন বা ডিলার পয়েন্ট থেকে তেল সরবরাহ করা হবে না। ফুয়েল কার্ড জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিস এবং জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
এছাড়া প্লাস্টিক বোতল বা ড্রামসহ কোনো কন্টেইনারে জ্বালানি তেল বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ফিলিং স্টেশন ছাড়া খোলা বাজারে জ্বালানি তেলের ক্রয়-বিক্রয়ও বন্ধ থাকবে।
এদিকে তেল নিতে ফজরের নামাজ আদায় করে লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুর গড়িয়ে গেলেও অনেকে তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, চৈত্রের এই তীব্র গরমে খোলা আকাশের নিচে পিচের রাস্তার উপর দীর্ঘক্ষণ সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে যখন নজেল ম্যানের কাছে পৌঁছালাম কাঙ্ক্ষিত তেল পাবার আশায় ঠিক সে সময় ঘোষণা দিচ্ছে তেল শেষ! আর তেল দেওয়া হবে না। পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষের এই খামখেয়ালি সিদ্ধান্তে হতাশ মোটরসাইকেল চালকরা। তারা বলেন, এই ভোগান্তির প্রতিকার কোথায় পাবো। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই অব্যাবস্থাপনা বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
জেলা প্রশাসনের বার বার অবস্থান বদলে ফুয়েল কার্ড নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে সাতক্ষীরায়। এদিকে, শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোররাত থেকে ফিলিং স্টেশন গুলোতে যানবাহন চালকদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। শহরের এবিখান পেট্রোল পাম্প ও পাটকেলঘাটা মজুমদার ফিলিং স্টেশনে জ্বালানির জন্য অপেক্ষায় শত শত যানবাহন চালক।
ঘটনার বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোনকলে সাড়া মেলেনি।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত জানান, ফুয়েল কার্ডের বিষয়ে এখনো কোন নির্দেশনা পাইনি।
আজকালের খবর/বিএস