রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সিআরবি'র সংস্থাপন বিভাগের হিসাব কর্মকর্তার নিজ বাস ভবনের পাশের ফুল করই গাছ নিজ উদ্যোগে কেটে সমালোচনায় আছেন।
বিভাগীয় প্রকৌশলী/২ এর কাছে নিজ উদ্যোগে গাছ কাটার লিখিত অনুমতি চাওয়ার পর তা এখন বিনা অনুমতিতে সরকারি গাছ কর্তন হিসাবেই আলোচনায় এসেছে।
অনুমতি পত্র অনুযায়ী জানা যায়, পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের সংস্থাপন বিভাগের হিসাব কর্মকর্তা নুসরাত সুলতানা গত ০৩.০২.২৬ তারিখে বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ এর কাছে একটি লিখিত অভিযোগে M/1-B বাংলোর পিছনের বাউন্ডারী দেয়ালের পাশে ১৫ বছরের একটি ফুল করই গাছ যে কোন সময় উপড়ে পড়ে গেলে পিছনের বাউন্ডারী দেয়ালটি নিশ্চিত ভেঙ্গে যাবে। এতে রেলওয়ের ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কেন নিজ উদ্যোগে সরকারি গাছ কেটেছেন তা নিয়েই আলোচনা হচ্ছে সিআরবি সদর দপ্তরে। আদৌ কি রেলের অবহেলা নাকি অতি ঝুঁকির কারণে নিজ উদ্যোগে গাছটি তিনি কেটেছেন কিংবা এর মাঝখানে কারো কোনো অসৎ উদ্দ্যশ্যে ছিলো এসব নিয়েই এখন আলোচনা হচ্ছে।
প্রতিবেদকের কাছে আসা দুইটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে বিশাল একটি গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে ইলেক্ট্রিক যন্ত্র দিয়ে। তথ্য অনুযায়ী খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, যিনি গাছ কাটছেন তিনি রেলের নির্ধারিত কোনো লোক নয়। কিংবা তাকে রেল থেকে কোনো দাপ্তরিক অনুমতির প্রেক্ষিতে গাছ কাটতে অনুমতি দেয়া হয়নি।
এ বিষয়ে রেলওয়ে সংস্থাপন বিভাগ এর হিসাব কর্মকর্তা নুসরাত সুলতানাকে ফোন দিলে তিনি জানান, এটা অফিসিয়ালি জানানো হয়েছে, অফিসিয়ালি করা হয়েছে। অফিসিয়ালি কথা চলতেছে। আপনাকে কি আপনার অফিস গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি আবারো বলেন, এই ব্যাপারে তার অফিসিয়ালি কথা হয়েছে।
অন্যদিকে রেল পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ জিসান দত্ত দৈনিক আজকালের খবর'কে জানান, এটা তো তাকে অনুমতি দেয়া হয়নি এবং এটা তার সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হবে। ব্যক্তিগত কোনো উদ্দেশ্যে এই গাছ কাটা হয়েছে কিনা এমন তথ্যের আলোকে তিনি জানান, ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য পরের কথা। এটা তো সে কাটতেই পারে না। এটা সরকারি সম্পত্তি। আর এটা তো পরিবেশের বিপর্যয় হবে। ধন্যবাদ আপনাকে এই বিষয়ে জানানোর জন্য। এবিষয়ে আমি আমার আইডাব্লিও অফিসারকে এখনই অবগত করছি।
কিন্তু আবেদনকতৃ অপর একটি অনুলিপির উপর আইডাব্লিও'কে ম্যানশন করে সাক্ষরিত ভাবে লিখা আছে, "সরজমিনে পরিদর্শন পূর্বক মতামত দিন"।
আবেদন তারিখ, রিসিভিং তারিখ ইত্যাদিতে দেখা গেছে গড়মিল। গোলক ধাঁধার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে সংশ্লিষ্ট আইডাব্লিও কর্মকর্তাকে একাধিক বার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
আজকালের খবর/বিএস