গাজীপুর জেলা সমবায় ইউনিয়নের সভাপতি অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান এলিস বলেছেন, সমবায় খাতকে টেকসই ও শক্তিশালী করতে হলে সমবায়ীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যমান আইনগত ও প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুর ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত সমবায়ীদের মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সমবায় আন্দোলনকে জনকল্যাণমুখী ও উৎপাদনমুখী ধারায় পরিচালিত করতে পারলে গাজীপুর জেলায় ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আর্থসামাজিক উন্নয়ন সম্ভব হবে। সমবায় শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান এলিস আরও বলেন, গাজীপুর জেলার প্রতিটি সমবায় সমিতিকে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মের আওতায় এনে সমবায়ীদের অধিকার সংরক্ষণ, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক সমবায় সমিতি বিভিন্ন আইনি জটিলতা, নীতিগত সীমাবদ্ধতা ও প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতার কারণে কাঙ্ক্ষিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। এসব সমস্যা সমাধানে সময়োপযোগী সমবায় আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইনের বাস্তবমুখী সংস্কার জরুরি। মতবিনিময় সভার আলোচনার মাধ্যমে সমবায়ীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সরকারের কাছে তা তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।
অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান এলিস আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সমবায় ইউনিয়নের অধীনে দেশের প্রতিটি জেলায় সমবায় ইউনিয়ন গঠিত হয়েছে। এসব ইউনিয়নের মূল উদ্দেশ্য হলো সমবায়ীদের অধিকার রক্ষা, সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং সমবায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা।
তিনি জানান, গাজীপুর জেলা সমবায় ইউনিয়ন জেলার প্রতিটি সমবায় সমিতিকে সদস্যপদের আওতায় এনে একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে কাজ করছে।
সমবায় আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সমবায়ের মূলনীতি অনুসরণ করে সদস্যদের অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পারলে এ খাত দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক মো. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, সরকার সমবায় খাতকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। সমবায়ের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গাজীপুর জেলা সমবায় কর্মকর্তা আরিফা সুলতানা শিপা, ছায়াবীথি গৃহ উন্নয়ন সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফাকরুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সম্পাদক জসীমউদ্দীন, ঢাকা সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের সভাপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার এবং গাজীপুর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের সভাপতি সানাউল্লাহ।
বক্তারা বলেন, সমবায় খাতকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সরকার, সমবায় সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আজকালের খবর/ এমকে