শুক্রবার ২২ মে ২০২৬
সংঘাত-সহিংসতা এড়িয়ে নির্বাচন হোক উৎসবমুখর
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৯ পিএম  আপডেট: ০৫.০২.২০২৬ ১০:৩৬ পিএম  (ভিজিট : ১০৪৮)
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার এক ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশকের একটি কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী কাঠামোর পতনের পর এ দেশের আপামর জনসাধারণের প্রধানতম আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং নিরাপদ রাষ্ট্রব্যবস্থা। কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞানের চিরায়ত সত্য হলো—যেকোনো গণ-অভ্যুত্থান বা বিপ্লব-পরবর্তী সময়কাল হয় অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং ষড়যন্ত্রের জন্য উর্বর ভূমি। আজ যখন দেশ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশীদারত্বমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে সুসংহত করার কথা ভাবছে, তখন আমাদের সামনে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজনৈতিক অনৈক্য এবং তৃণমূল পর্যায়ের অসংগঠিত সংঘাত।

ইতিপূর্বে আমার একাধিক নিবন্ধে ‘রাজনৈতিক অনৈক্য এবং নির্বাচনী সংঘাত’ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে যে শঙ্কাগুলো প্রকাশ করেছিলাম, তা আজ এক ভিন্ন ও গভীর মাত্রায় প্রতীয়মান হচ্ছে। রাজনৈতিক সহিংসতার একটি বিশাল অংশই ঘটছে ফ্যাসিস্টবিরোধী প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারের লড়াইকে কেন্দ্র করে। এই পরিসংখ্যান কেবল সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার প্রমাণ নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে মাঠ পর্যায়ে ‘চেইন অব কমান্ড’ বা কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ক্রমশ শিথিল হয়ে পড়ছে। যখন অভ্যন্তরীণ সংঘাত বৃদ্ধি পায়, তখন তা রাষ্ট্রের শাসনতান্ত্রিক ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয় না, বরং বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপের জন্য এক উন্মুক্ত তোরণ তৈরি করে দেয়।

৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমাদের জাতীয় উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন এবং জাতীয় স্থিতিশীলতাকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর বিভিন্ন কৌশলগত ও গোয়েন্দা তৎপরতার কথা উঠে এসেছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, বঙ্গোপসাগরের নিয়ন্ত্রণ এবং দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতিতে এর কৌশলগত গুরুত্বের কারণে বিশ্বশক্তিগুলো সবসময়ই এই ভূখণ্ডের প্রতি বিশেষ আগ্রহী। বিশেষ করে আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখতে চাওয়া পক্ষগুলো সবসময়ই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি ‘আজ্ঞাবহ’ বা ‘প্রক্সি’ ব্যবস্থা দেখতে অভ্যস্ত।

আমাদের বুঝতে হবে যে, যখন আমাদের নিজেদের মধ্যে হানাহানি চরমে ওঠে, যখন আমাদের তৃণমূল পর্যায়ে অকারণ রক্তপাত ঘটে, তখন বহিঃশত্রুরা সহজেই সেই বিশৃঙ্খলাকে পুঁজি করে তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে নাশকতামূলক কাজ সম্পন্ন করতে পারে। অভ্যন্তরীণ অনৈক্যই বহিঃশত্রুর হস্তক্ষেপের জন্য প্রধান প্রবেশপথ। সুতরাং, জাতীয় স্বার্থে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে বর্তমান সময়ে ফ্যাসিস্টবিরোধী সব রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে একটি কৌশলগত সংহতি এবং সহাবস্থান বজায় রাখা অনিবার্য হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘকাল ধরে একটি ভ্রান্ত মেরুকরণ চালু আছে—ভারতপন্থী বনাম পাকিস্তানপন্থী। এই বিভাজন মূলত আমাদের সার্বভৌমত্বের ভিত্তিকেই নড়বড়ে করে দিয়েছে। এখন সময় এসেছে এই দ্বিমেরু রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি নির্ভেজাল ‘বাংলাদেশপন্থী’ রাষ্ট্রদর্শন, শক্তি বা সরকার গঠন করার। আমাদের প্রয়োজন এমন এক রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সামাজিক সচেতনতা, যার আনুগত্য হবে কেবল এ দেশের মাটি ও মানুষের প্রতি। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে আমাদের সম্পর্ক হতে হবে সমমর্যাদা ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে। কোনো ভিনদেশী প্রেসক্রিপশন বা লবিস্টদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায়, তারা এ দেশের মানুষের টেকসই কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। আমাদের সামনে এখন স্পষ্ট বিকল্প—হয় আমরা নিজেদের মধ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বার্থে কামড়া-কামড়ি করে বহিঃশত্রুর জন্য পথ প্রশস্ত করব, না হয় সব বিভেদ ভুলে একটি সার্বভৌম ও মর্যাদাসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যমত্যে পৌঁছাব।

যেকোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মূল শক্তি হলো তৃণমূল। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির স্থানীয় ‘লর্ড’ বা ‘জমিদার’ শ্রেণির উত্থান ঘটছে। এই তথাকথিত নেতারা আদর্শিক রাজনীতির পরিবর্তে ব্যক্তিকেন্দ্রিক গ্রুপিং এবং ক্ষমতার অপব্যবহারে লিপ্ত। যখন রাজনৈতিক সংঘাত অভ্যন্তরীণ রূপ নেয়, তখন তা দমনের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট আইন বা নৈতিক কমান্ড কার্যকর থাকে না। এই অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা কেবল সংশ্লিষ্ট দলগুলোর ভাবমূর্তি নষ্ট করছে না, বরং এটি প্রকারান্তরে পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার এবং রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার সুবর্ণ সুযোগ করে দিচ্ছে। রাজনৈতিক সংঘাত যখন জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে এক ধরণের বিতৃষ্ণা তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্রের জন্য আত্মঘাতী।

ফ্যাসিস্টদের পতনের পর আমাদের মূল অঙ্গীকার ছিল একটি বহুমাত্রিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ। কিন্তু ইতিহাসের নির্মম পরিহাস হলো, অনেক সময় একটি দীর্ঘমেয়াদী স্বৈরশাসনের পতনের পর যে শূন্যস্থান তৈরি হয়, সেখানে বিজয়ী শক্তির মধ্যেই ক্ষমতার অতি-কেন্দ্রিকতা বা নতুন ধরণের ফ্যাসিবাদের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যখন তৃণমূল পর্যায়ে দখলদারিত্ব, সম্পদ দখল এবং ভিন্নমতের নাগরিকদের ওপর পদ্ধতিগত জুলুম চালানো হয়, তখনই একটি নতুন ফ্যাসিবাদের বীজ বপন করা হয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, ফ্যাসিস্টদের পতন ঘটানো যেমন কঠিন কাজ ছিল, তার চেয়েও কঠিন কাজ হলো নিজেদের মধ্য থেকে নতুন কোনো ফ্যাসিস্টের জন্ম রোধ করা। এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো ফ্যাসিস্টবিরোধী সব গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক শক্তির মধ্যে একটি সুদৃঢ় এবং দীর্ঘমেয়াদী ‘জাতীয় ঐক্য’ প্রতিষ্ঠা করা। এই ঐক্য কোনো নির্বাচনী জোট নয়, বরং এটি হবে একটি উচ্চতর আদর্শিক অঙ্গীকার—দেশকে পুনরায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্ব থেকে রক্ষা করার অঙ্গীকার। কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা দলীয় স্বার্থ যেন জাতীয় নিরাপত্তার উপরে না ওঠে, সেটিই হওয়া উচিত এই জাতীয় সংহতির মূল ভিত্তি।

একটি নির্বাচন কেবল ক্ষমতা বদলের উপায় নয়, এটি একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরীক্ষা। কিন্তু সেই পরীক্ষায় যদি আমরা সহিংসতার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হতে চাই, তবে তা হবে গণতন্ত্রের পরাজয়। নির্বাচনী সহিংসতা বন্ধ করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বকে কড়া অবস্থান নিতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে যদি কঠোর বার্তা না দেওয়া হয় এবং নিজ দলীয় বিশৃঙ্খলার দায়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক সাংগঠনিক ও আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা না হয়, তবে এই অস্থিতিশীলতা থামানো কঠিন হবে। সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিনের দুঃশাসনের পর আর কোনো অরাজকতা বা রক্তের হোলি খেলা দেখতে চায় না। তারা চায় এমন একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ যেখানে তারা নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। একটি উৎসবমুখর নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো—সব রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে সহাবস্থান, পরমতসহিষ্ণুতা এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা। নির্বাচনী প্রচারণায় পেশিশক্তির বদলে জনকল্যাণমুখী পরিকল্পনার লড়াই হতে হবে।

বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আমি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ ও কৌশলগত পথরেখা তুলে ধরছি:

১. অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান: প্রতিটি রাজনৈতিক শক্তিকে এখনই তাদের ভেতরকার সুযোগ সন্ধানী, দখলদার এবং বিশৃঙ্খলাকারী সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে তাদের রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় করতে হবে।

২. মেধা ও ত্যাগের মূল্যায়ন: পরিবারতন্ত্র বা ব্যক্তিতন্ত্রের বদলে যারা শিক্ষিত, রাজনীতি সচেতন এবং যাদের মধ্যে জনসেবার মানসিকতা আছে, তাদের নেতৃত্বের সামনের সারিতে নিয়ে আসতে হবে।

৩. ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য: ফ্যাসিস্টবিরোধী দলগুলোকে একত্রিত হয়ে একটি ‘জাতীয় সনদ’ তৈরি করতে হবে। এই সনদে থাকবে—নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কোনো শক্তিই এককভাবে স্বৈরাচারী হবে না এবং সবাই মিলে রাষ্ট্র সংস্কারে ভূমিকা রাখবে।

৪. বহিঃশত্রুর ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় কৌশলগত জোট: কোনো বিদেশী শক্তি যেন আমাদের অভ্যন্তরীণ সংঘাতকে উস্কে দিতে না পারে, সেজন্য সব রাজনৈতিক দলকে নিজেদের মধ্যে সংলাপের পথ উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং যৌথভাবে যেকোনো নাশকতার ছক রুখে দিতে হবে।

৫. রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও প্রশিক্ষণ: তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক শিষ্টাচার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে তারা সহাবস্থানের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে।

বাংলাদেশ আজ ইতিহাসের এক অগ্নিপরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়ে। একদিকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত নতুন এক সম্ভাবনার আকাশ, অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর হীন চক্রান্ত এবং নিজেদের ভেতরের কৌশলগত বিভাজন—এই ত্রিবিধ সংকটের মাঝে আমাদের পথ চলতে হচ্ছে। জনপ্রিয়তাকে কেবল সস্তা স্লোগানে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, সেটিকে একটি সংহত রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ কোনো আন্তর্জাতিক দাবার ঘুঁটি নয় যে কেউ চাইলেই এখানে চাল চেলে আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। এ দেশের মাটি ও মানুষ লড়াই করে স্বাধীনতা এনেছে এবং লড়াই করেই তারা তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে।

অতীতের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমাদের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সাহসের সাথে তৃণমূলের জঞ্জাল পরিষ্কার করতে হবে। সংঘাত-সহিংসতা এড়িয়ে আগামী নির্বাচনকে একটি উৎসবের রূপ দিতে পারলে তবেই বাংলাদেশ প্রকৃতপক্ষে একটি সার্বভৌম ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। একটি ‘বাংলাদেশপন্থী’ রাজনৈতিক শক্তিই পারে আমাদের এই কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছে দিতে। ফ্যাসিবাদ যেন আর কখনও কোনো রূপেই ফিরে না আসতে পারে এবং আমরা যেন নিজেরা পুনরায় ফ্যাসিস্ট হয়ে না উঠি—সেটাই হোক আমাদের সময়ের শপথ।

 
লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।









Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft