শনিবার ২৭ জুন ২০২৬
শিক্ষামন্ত্রীর টেলিফোন ও মনিপুর স্কুলের কমিটি
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৮:২৫ পিএম   (ভিজিট : ৩২৭)
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মনিপুর স্কুল ও কলেজের ম্যানেজিং কমিটি অনুমোদনকে কেন্দ্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করে কতিপয় শিক্ষক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সদ্য বিদায়ী কমিটির লোকজন। অতি সম্প্রতি এ নিয়ে একাধিক মিডিয়ায় খবর প্রচারিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা প্রপাগান্ডা। এসব খবরে বাংলাদেশের সফল মন্ত্রী বিএনপির কারা নির্যাতিত নেতা শিক্ষামন্ত্রী ড, আনম এহছানুল হক মিলন, তাঁর পিএস, ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও অনুমোদিত এডহক কমিটির সভাপতিকে জড়ানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ছড়ানো হচ্ছে নেতিবাচক খবর। প্রকৃত সত্য গোপন করে একটি মিডিয়া উল্লেখিতদের নামে খবর প্রকাশ অব্যাহত রেখেছে। খবরে প্রধানমন্ত্রীর অফিসকেও জড়ানো হয়। খবরে বলা হয় মনিপুর স্কুল এন্ড কলেজ এর কমিটি অনুমোদনের জন্য শিক্ষামন্ত্রী এবং তাঁর পিএস এর মধ্যে এক কোটি টাকা লেনদেন হয়। ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানে রয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী ও সাড়ে ৭শ শিক্ষক কর্মচারী।

প্রকৃত সত্য হচ্ছে, মনিপুর স্কুল এন্ড কলেজের একদল শিক্ষক এবং ধর্মভিত্তিক একটি রাজনৈতিক দলের কতিপয় নেতা প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটিতে নিয়োগ পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। ফ্যাসিবাদ সরকারের পতনের পর তারাই ছিল বাংলাদেশের সকল  প্রতিষ্ঠানের সর্বেসর্বা। রাজপথ থেকে রাজবাড়ি সবই ছিল তাদের দখলে। প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ের শীর্ষ পদগুলোতে ছিলো তাদের পছন্দের লোক। মনিপুর স্কুল এন্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিল তাদের হাতের পুতুল। অপরাপর পদেও ছিল তাদের লোক।  লুটপাটের হুতা সাবেক সাংসদ কামাল মজুমদারের সঙ্গে একাট্টা হয়ে কাজ করে ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দলের বেশ কিছু শিক্ষক এবং স্থানীয় নেতারা। এবারো ঐ অংশটি প্রতিষ্ঠানের কমিটি দখলের চেষ্টা করলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও শিক্ষামন্ত্রী ড, আনম এহছানুল হক মিলন তা প্রতিহত করেন এবং সিনিয়র সাংবাদিক প্রথিতযশা চিত্রশিল্পী সাবেক ছাত্রনেতা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্য হামিদুল হক মানিককে সভাপতি করে এডহক কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঐ অংশটি ভুলবাল খবর প্রচারে মাঠে নামে। মিথ্যা খবরকে রংচং মাখিয়ে প্রচার করে।

শিক্ষামন্ত্রী ড, আনম এহছানুল হক মিলন এ প্রসঙ্গে বলেন, আমার কাছে খবর ছিল মনিপুর স্কুল এন্ড কলেজটিতে দীর্ঘ বছর যাবত ব্যাপক অনিয় হয়েছে। যারা জড়িত তারাই আবার কমিটি অনুমোদন নিয়ে গেছে। আমি কমিটি তাৎক্ষনিক ভাবে স্থগিত করি। পরবর্তীতে জানতে পারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন ক্রমেই নতুন এডহক কমিটি ঢাকা শিক্ষা বোর্ড অনুমোদন করেছে। তখন আমি কমিটি অনুমোদন দেয়ার নির্দেশ দেই। এখানে টাকা পয়সা সম্পর্কে কারো সঙ্গে কোনো কথাই হয়নি। তাছাড়া এডহক কমিটির বর্তমান সভাপতি সাংবাদিক হামিদুল হক মানিক আমার পরিচিত।

শিক্ষা মন্ত্রীর পিএস বর্তমানে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল প্রকাশিত খবর সম্পর্কে বলেন, যারা চেষ্টা করেও কমিটি পায়নি তারা এ ধরনের খবর প্রকাশের আশ্রয় নিতে পারে। তবে শিক্ষামন্ত্রী এবং আমাকে জড়িয়ে যে কথা বলা হয়েছে তা সর্বৈব মিথ্যা এবং বানোয়াট। কমিটি গঠনের বিষয়টি আমার এক্তিয়ারে না। সুতরাং টাকা পয়সা লেনদেনের প্রশ্নই উঠে না। তিনি বলেন, গত ১৭ বছর ঢাকায় আসতে পারিনি। দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে থাকতে হয়েছে। যারা আমাকে পছন্দ করেন না তারাই এসব করতে পারেন। 

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এহসানুল কবীর প্রকাশিত খবর সম্পর্কে বলেন, মনিপুর স্কুল এন্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটি জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুমোদিত হয়ে বোর্ড অফিসে আসে। আমি যথারীতি এডহক কমিটি অনুমোদন দেই। পরে শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের ফোনে আমি কমিটি স্থগিত করি। দুদিন পর শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশে স্থগিত আদেশ প্রত্যাহার করে পূর্বের কমিটিই বহাল করি। বোর্ড অফিসের যাদের কথা বলা হয়েছে জরিত তাদের বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে জানান। 

মনিপুর স্কুল এন্ড কলেজের নব নিযুক্ত কমিটির সভাপতি হামিদুল হক মানিক বলেন একটি রাজনৈতিক দলের কতিপয় নেতাকর্মী এবং প্রতিষ্ঠানের গুটি কয়েক শিক্ষক তাদের সুযোগ সুবিধা ও লুটপাট অব্যাহত রাখার জন্য প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের জন্য মাঠে নামে। এর সঙ্গে ঢাকা বোর্ডের একজন ডেপুটি পরিদর্শক ও একজন পরিদর্শক যুক্ত হয়ে আমাদের বিপক্ষে বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ঊর্ধ্বতন কর্তা ব্যক্তির কান ভারি করে। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর অফিস এবং শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে আমাদের কমিটি অনুমোদন পায়। হামিদুল হক মানিক আরো বলেন, যারা বিগত সময়ে ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন করেছেন তাদের প্রত্যেক্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সম্মিলিত ভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। 

তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়ন, খেলাধুলায় অগ্রগামী করার পাশাপাশি উত্তরায় আরও একটি ব্রাঞ্জ স্থাপনে নতুন কমিটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-অভিভাবক সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিষ্ট

আজকালের খবর/বিএস 










Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft