
গোপালগঞ্জে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মো. মামুনুল হক বলেছেন, যদি কেউ ভোট চুরি করার দুরভিসন্ধি আঁটে, সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জাল ভোট দেয়ার একটা পায়তারা হচ্ছে। আমাদের কাছে সংবাদ আছে তারা মরা মানুষ, বিদেশে আছে, এখানকার ভোটার অন্য জায়গায় থাকে তাদের তালিকা তৈরী করছে। অতীতে না কি নির্বাচনের সময় কবরস্থান থেকে মরা মানুষ এসে ভোট দিয়ে গেছে। তাই প্রতিটি নির্বাচনী কেন্দ্রের কাছে জনপ্রচীর গড়ে তুলবেন, যাতে কবরস্থান থেকে কোন মরদার (মরা মানুষ)এসে ভোট দিতে না পারে। পোলিং এজেন্টদের বলবো কোন মরদার মানুষ যদি ভোট দেয়ার জন্য কেন্দ্রে আসে সেখানে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোর্পদ করবেন।
সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ইং ) দুপুরে গোপালগঞ্জ শহরলীর সমন্বিত সরকারী অফিস ভবন সংলগ্ন সড়কের উপর অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে মাওলানা মো. মামুনুল হক বলেন, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে আমরা আশা করি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আপনারা তৈরী করবেন। বিভিন্ন জায়গায় ১১ দলীয় নির্বাচনী প্রার্থীদের জয়-জয়কার শুরু হওয়ার পর থেকে সন্ত্রাস ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এই অগ্রযাত্রাকে রূখে দেয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যদি নির্বাচন কমিশন এই ভয়ভীতি এবং হুমকি প্রদানকারী সন্ত্রাসী কার্যকলাপ রূখে দিতে ব্যর্থ হয়, আগামী বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই যে কোন মূল্যে এতো রক্তপাত এতো শাহাদাৎ, এতো জীবনের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশ কোন ভাবে আমরা ব্যর্থ হতে দিতে পারি না।
তিনি আরো বলেন, যারা পেশী শক্তি প্রয়োগ করার চিন্তা ভাবনা করছেন, যারা সন্ত্রাসের মাধ্যমে অতীতের মতো আবার ক্ষমতা দখলের স্বপ্নে বিভোর আছেন, তাদের সকলকে আমি সতর্ক করে সজাগ করতে চাই এই বিপদজনক পথে পা বাড়াবেন না। পরিনাম ভাল হবে না। তাই প্রশাসনকে বলবো কোন কোন প্রার্থী অতীতের আচারণ স্বভাবগত কারণে ছাড়তে পারছেন না। তাদেরকে আপনারা ভাল করে বুঝিয়ে দিন, সন্ত্রাসের মাধ্যমে, পেশী-শক্তির মাধ্যমে যদি কেউ জনতায় রায় ছিনতাই করার চেষ্টা করে, প্রতিটি কেন্দ্রে কেন্দ্রে আমরা তাদেরকে প্রতিহত করতে বাধ্য হবো।
১১ দলীয় নির্বাচনী জোট প্রসঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মো. মামুনুল হক বলেন, আমরা বিশ্বাস করছি, আমাদের যে নির্বাচনী অঙ্গীকার, ইনশাল্লাহ ১১দল কোন ব্যক্তির স্বার্থ উদ্ধার করার জন্য গঠিত হয়নি। ১১ দলী নির্বাচনী ঐক্য কোন একটি দল বা কোন একটি গোষ্ঠিকে বা জোটকে ক্ষমতায় আনার জন্য সৃষ্টি হয়নি। ১১ দলীয় জোট গঠিত হয়েছে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষকে তাদের বৈষম্য, শোষণ এবং বিগত দিনের জুলুমের শিকার হওয়া এই জনপদকে তাদের ন্যায়্য অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য।
এর আগে, বাংলাদেশ শ্রমিক মজলিসের সভাপতি মো. সরফত হোসেন, গোপালগঞ্জ-২ আসনের রিক্সার মার্কার প্রার্থী মো. শুয়াইব ইবরাহীম ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনের রিক্সা মার্কার প্রার্থী মো. আব্দুল আজিজ (মাক্কী) বক্তব্য রাখেন। পথসভায় গোপালগঞ্জ-২ ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মি ও সমর্থক অংশ নেন।
এআরজে