
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নীলফামারী জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। মনোনয়নপত্র দাখিল ও যাচাই-বাছাই শেষে জেলার চারটি সংসদীয় আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে করে ভোটারদের মধ্যে কৌতূহল, আলোচনা ও নির্বাচনী আগ্রহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সীমান্তবর্তী জেলা নীলফামারীতে জাতীয় সংসদের চারটি আসনে মোট ২৪ জন প্রার্থী যাচাই শেষে চূড়ান্তভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
নীলফামারী-১ (ডোমার–ডিমলা): ৯ জন প্রার্থী চূড়ান্ত
ডোমার ও ডিমলা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৯ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
এই আসনে বিএনপির জোট শরিক বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-এর মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার।
অন্যান্য বৈধ প্রার্থীরা হলেন- মেজর (অব.) তছলিম উদ্দিন (জাতীয় পার্টি),সিরাজুল ইসলাম (বিএনএফ), আব্দুল জলিল (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মো. সাদ্দাম হোসেন (খেলাফত মজলিস), মো. রফিকুল ইসলাম (বাসদ–মার্কসবাদী), মো. মখদুম আজম মাশরাফী (জেপি),জেবেল রহমান গনি (ন্যাপ)।
নীলফামারী-২ (সদর): ৫ জন প্রার্থী বৈধ
জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই শেষে ৫ জন প্রার্থী বৈধতা পান। বৈধ প্রার্থীরা হলেন- প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী (তুহিন) বিএনপি,অ্যাডভোকেট আল-ফারুক আব্দুল লতীফ জামায়াতে ইসলামী,হাসিবুল ইসলাম ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ,সারোয়ারুল আলম বাবু খেলাফত মজলিস,সিরাজুল ইসলাম বিএনএফ
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাইফুল্লাহ রুবেল ও মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজের মনোনয়ন কাগজপত্রে অসংগতি থাকায় বাতিল করা হয়েছে।
নীলফামারী-৩ (জলঢাকা): লড়াই দু’জনের মধ্যে
জলঢাকা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে চারজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই শেষে দু’জন প্রার্থী চূড়ান্ত হন সৈয়দ আলী বিএনপি,মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী জামায়াতে ইসলামী,জাতীয় পার্টির আমজাদ হোসেন সরকার, এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রোহান চৌধুরীর
মনোনয়নপত্র ত্রুটির কারণে বাতিল করা হয়।
নীলফামারী-৪ (কিশোরগঞ্জ–সৈয়দপুর): সবচেয়ে বেশি প্রার্থীএই আসনে সবচেয়ে বেশি, মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই শেষে ৮ জন প্রার্থী বৈধতা পান।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন- মো. আব্দুল গফুর সরকার বিএন পি, মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম জামায়াতে ইসলামী, মো. শহিদুল ইসলাম ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, মির্জা মো. শওকত আকবর রওশন জাতীয় পার্টি, মো. জয়নাল আবেদীন জাতীয় পার্টি, মো. সিদ্দিকুল আলম জাতীয় পার্টি, মো. মাইদুল ইসলাম বাসদ (মার্কসবাদী), নুর মোহাম্মদ এলডিপি।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চারটি আসনে মোট ৪৪ জন মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও ৩৩ জন মনোনয়ন দাখিল করেন। যাচাই-বাছাইয়ে ভোটার স্বাক্ষর ও কাগজপত্রে ত্রুটির কারণে ৯ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জানান, বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করার সুযোগ পাবেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নীলফামারীর চারটি আসনেই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠতে পারে। ফলে নির্বাচনী মাঠে প্রচারণা, ভোটার সংযোগ ও রাজনৈতিক তৎপরতা আগামী দিনে আরও জোরালো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আজকালের খবর/বিএস