বাসা থেকে অর্ধ কিলোমিটার স্কুল, কিন্তু একটি ব্রিজের অভাবে তিন কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয় স্কুলে। বিদ্যালয়ে গিয়ে এসে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। রাস্তা ঘুরে না যেতে এই মরন ফাঁদ ভাঙ্গা সাঁকোর উপর দিয়েই পারাপার হচ্ছি প্রতিদিন। এভাবেই কথা গুলো বলছিলেন হযরত ফাতিমা (রাঃ) স্কুল এন্ড কলেজের ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোছা. লামিয়া আক্তার।
নুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার কেঁদে কেঁদে বলেন, খালের উপর বাঁশের সাঁকো তাও ভাঙ্গা, ভয় ভয় করে কোন রকমে পাড় হই। এখানে একটা পুল (ব্রিজ) হলে আমাদের অনেক সুবিধা হত। আপনি নিজে দেখলেন কিভাবে আমি পড়ে গেলাম। আজ নিয়ে ৩দিন পড়ে গেলাম। এভাবে কি যাওয়া আশা করা যায়। একই ভাবে ব্রিজের আকুতি জানায়, শিক্ষার্থী মোছা. আফরিন বেগম, বিউটি বেগম, বাবলু মিয়া ও রেজওয়ানুল হক।
বলদী পাড়া গ্রামের শিক্ষার্থীর অবিভাবক সাইফুল ইসলাম সাঁকো পার হয়ে বলেন, ব্রিজের অভাবে রাস্তাটা ব্যবহার করতে পারি না। বাড়ি থেকে শহর যেতে ১৫ মিনিটের পথ। ঘুরে যেতে লাগে এক ঘণ্টা। আমাদের ছেলে মেয়েরা জীবন হাতে নিয়ে ভাঙ্গা সাকো দিয়ে স্কুলে যাওয়া আসা করে। তাদের নিয়ে সব সময় চিন্তায় থাকি কখন কোন দুঘর্টনা ঘটে। তিন গ্রামে রোগী পরিবহনে এ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢোকে না। ঢুকলেও কয়েক কিলোমিটার ঘুরে আসতে হয়। আমরা তিন গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার পৌরবাসী হলেও সব ধরনের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অথচ পৌরসভার ট্যাক্স দেই।
জানা গেছে, পৌরসভা হওয়ার আগে বলদিপাড়া, মৌলভীপাড়া, জোনাই ডাঙ্গা গ্রাম গুলো ছিল গুনাইগাছ ও ধামশেনীর অর্ন্তগত। বর্তমানে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডভুক্ত হলেও পৌর উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। ট্যাক্স দিতে হচ্ছে পৌরসভায়। কিন্ত ইউনিয়নের সেবা পাচ্ছে না অভিযোগ স্থানীয়দের। উলিপুর পৌরসভা ১৯৯৮ সালে গঠিত হয় এবং ২০২২ সালে প্রথম শ্রেণীতে উন্নিত হয়। পৌরসেবা ও সুযোগ সুবিধার দাবি তাদের।
হযরত ফাতিমা (রাঃ) স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজ রুহুল আমিন বলেন, ওই তিন গ্রাম থেকে প্রায় শতাধিক শিক্ষাথী আমার প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করতে আসে। কিন্ত তাদের যাতায়াতের রাস্তায় বুড়ি তিস্তার উপর ব্রিজ না থাকায় শিক্ষাথীদের মরন ফাঁদ বাঁশের ভাঙ্গা সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আসতে হয়। অথবা তিন কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে আসতে হয়। তিনি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. নার্গিস ফাতিমা তোকদার বলেন,আমার স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ওই পারের ব্রিজ না থাকায় শিশু শিক্ষার্থীদের আসা যাওয়ার সমস্যা হচ্ছে, ব্রিজটা হলে সুবিধা হবে।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ওই স্থানে বুড়িতিস্তার উপর ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। টাকা বরাদ্ধ না থাকায় ব্রিজটি নির্মাণ করা যাচ্ছে না। বরাদ্ধ পেলে রাস্তাটিসহ ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মাহমুদুল হাসান বলেন. আমি সদ্য যোগদান করেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো।
আজকালের খবর/বিএস