মুরাদনগরের আলোচিত ধর্ষণ মামলার ভুক্তভোগী হিন্দু নারী এক চাঞ্চল্যকর ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, তিনি নিজেই মামলা করেছিলেন, কিন্তু এখন ভয়ে, নিরাপত্তাহীনতায় ও পারিবারিক চাপে মামলা তুলে নেওয়ার চিন্তা করছেন।
ভিকটিমের ভাষায়—“আমি মামলা করছি, আবার উঠাই ফেলবো। আমি দশজনের ভালোর কথা ভাবি। আমাকে কেউ চাপ দেয় নাই, টাকার লোভও দেখায় নাই। তবে আমার স্বামী বলছে—তোর সম্মান তো গেছেই, এখন আর মামলা করে লাভ নাই।”
ভিকটিমের এ বক্তব্য অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগিয়েছে—এই বক্তব্য তার নিজের ইচ্ছায়, না কি সামাজিক, পারিবারিক কিংবা প্রশাসনিক চাপের ফসল?
সাংবাদিকের প্রশ্নে তিনি আরও জানান, “ফজর আলীর সাথে আমার কোনো সম্পর্ক ছিল না। টাকা পয়সা লেনদেন হয়েছে, তাই কথা হইছে।”
এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ, সাংবাদিক ও ইউটিউবারদের একের পর এক প্রশ্নবানে প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ধর্ষণের শিকার ওই নারী। তার কথায় অস্পষ্টভাবে বোঝা যায়—তিনি মানসিকভাবে চাপে আছেন এবং মামলা জারি রাখার মতো নিরাপত্তা ও পারিবারিক সহায়তা পাচ্ছেন না।
এদিকে মামলার পর পুলিশের অভিযানে মূল অভিযুক্ত ফজর আলীসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ জুন) রাতভর কুমিল্লা পুলিশের একাধিক টিম চারজনকে আটক করে এবং রবিবার ভোরে রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মূল অভিযুক্ত ফজর আলীকে। গ্রেপ্তারের সময় স্থানীয়দের হাতে গণপিটুনির শিকার হন তিনি।
পুলিশ জানায়, ফজর আলী গুরুতর আহত অবস্থায় আত্মগোপনের চেষ্টা করছিলেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং সুস্থ হওয়ার পর তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এএসপি রাশেদুল হক চৌধুরী বলেন, “ধর্ষণ ও ভিডিও ভাইরাল—দুটো বিষয়েই তদন্ত চলছে। আমরা বেলা ১১টার পর থেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছি। ভিকটিমকে কে বা কারা গালাগালি ও মারধর করেছে এবং নগ্ন করে ভিডিও করেছে, এসব বিষয়ও আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি।”
অনুসন্ধানে জানাযায়, ২৫ বছর বয়সী ওই নারী তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাতে বাহেরচর পাঁচকিত্তা গ্রামে ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। শুক্রবার (২৭ জুন) বিকেলে মুরাদনগর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন ভুক্তভোগী।
এই ঘটনায় শুধু ধর্ষণ নয়, বরং মামলা পরবর্তী মানসিক নির্যাতন, সামাজিক অপমান ও এক ধরনের “ব্লেমিং” কালচারের চিত্র উঠে এসেছে।
একজন ধর্ষিতা যখন নিজেই বলে ওঠেন—“আমি মামলা করেছি, আবার উঠিয়ে ফেলবো”—তখন সমাজের সংবেদনশীলতা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও নারী অধিকার রক্ষার বাস্তব চিত্র কতটা হতাশাজনক তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আজকালের খবর/ এমকে