স্বাধীন বাংলার প্রথম মুক্তিযুদ্ধের ছবির প্রযোজক বরেণ্য চলচ্চিত্র অভিনেতা ও পরিচালক মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানা রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে লাইফ সাপোর্টে থাকলেও বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটায় আজকালের খবরকে ছোটভাই মার্শাল আর্ট হিরো রুবেল নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বুধবার অবস্থার অবনতি হলে ভাইয়াকে লাইফ সাপোর্টে রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। সেই মোতাবেক বুধবার সকালে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। গভীর রাতে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়তে থাকে। পরে তিনি আমাদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। এক পর্যায়ে তিনি দেশবাসীর ও ভক্তদের কাছে দোয়াও চেয়েছেন।
তিনি জানান, কয়েক দিন ধরে জ্বর ও কাশিতে ভুগছিলেন সোহেল রানা। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করান। জানতে পারেন, তিনি করোনা পজিটিভ। ২৫ ডিসেম্বর রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ২৭ ডিসেম্বর চিকিৎসকরা তাকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখেন। সেখানে তার সব ধরনের শারীরিক পরীক্ষা–নিরীক্ষা করা হয়। পরে বুধবার সকালে সোহেল রানার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ওই হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
এদিকে সহকর্মী সোহেল রানার অসুস্থতার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী শবনম। সমবয়সী এই অভিনেত্রী এক পর্যায়ে সোহেলর রানাকে দেখতে যাওয়ার জন্য এই প্রতিবেদকের কাছে আগ্রহ প্রকাশ করলেও তাকে বুঝিয়ে নিবৃত করা হয়। শবনম বলেন- এখনতো ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ কারো খবর নেয় না, এর মধ্যে পারভেজ সাহেব মাঝে মাঝে ফোন দিয়ে আমার খোঁজ নেন। আমরা তখন নিজেদের শৈশবের কথা আলোচনা করি। মনে পরে পাকিস্তান থেকে এসে সন্ধির পর অশোক ঘোষ পরিচালিত ‘জুলি’ ছবিটি করেছিলাম। শুটিং তিনি সময় নিয়ে সচেতন ছিলেন। দোয়া করি তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসুন।
বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’ ছবির প্রযোজক হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন মাসুদ পারভেজ। এটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম। ১৯৭৩ সালে সোহেল রানা নাম ধারণ করে কাজী আনোয়ার হোসেনের বিখ্যাত কাল্পনিক চরিত্র মাসুদ রানার একটি গল্প অবলম্বনে ‘মাসুদ রানা’ ছবির নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। একই ছবির মাধ্যমে তিনি মাসুদ পারভেজ নামে পরিচালক হিসেবেও যাত্রা শুরু করেন।
আজকালের খবর/আতে