ভৈরবের বাজারের নামকরণ নিয়ে দুইদল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে মাসুদ মিয়া (৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এছাড়া সংঘর্ষে আহত হয়েছেন উভয়পক্ষের অর্ধশত লোক।
নিহত যুবক ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের মিরারচর গ্রামের আসাদ মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার মিরারচর-আকবরনগর দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।
সংঘর্ষে আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যারা চিকিৎসা নিয়েছে তারা হলেন- মোবারক (৪০), হিমেল (৩৫), আমীর (৩০), আইয়ূব (২৬), খলিল (৪০), কাজল (৩২), সেলিম (৩৫), রবিউল (২৬), রাজন (২০), শাহ আলম (৩১), আরমান (১৯), আমান (২৩), শরিফ (৩০), রোহান (১২), আজিজুল (২৮), সুমন (৩৮), হিরণ (৬২), নৌশাদ (২২), আরিফ (১৯), সালাম (২৯), হৃদয় (২১), সজিব (২৩), ফরহাদ (২৪), ইয়াসিন (২১), আবির (২২), সিমা (১৪), রানা (২২), ইব্রাহিম (২৫) অমিত (২৪)।
তাদের মধ্যে ৯ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়। এছাড়া গুরুতর আহত হিরনের অবস্থা আশংকাজনক বলে কর্তব্যরত ডাক্তার জানিয়েছেন। অন্যান্য আহতরা স্থানীয় প্রাইভেট হাসপাতালে-ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে সংঘর্ষের কারণে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১১টায় পর্যন্ত ভৈরব ও কুলিয়ারচর রেলস্টেশনে দুটি ট্রেন দুইঘণ্টা ধরে আটকা পড়ে থাকে। ঘটনাস্থল এলাকায় গ্রামবাসী রেললাইন অবরোধ করে রেখেছিল। ভৈরবে আটকা ঢাকা- কিশোরগঞ্জগামী এগারসিন্ধু ও কুলিয়ারচর স্টেশনে আটকা ময়মনসিংহ- চট্রগ্রামগামী বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন। তবে সংঘর্ষ থামলে বিকেল সাড়ে ৩টায় আটকা পড়া দুটি ট্রেন স্টেশন ছেড়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশে অবস্থিত আকবরনগর বাজারের নামকরণ নিয়ে বিরোধ চলছিলো। আকবরনগরের লোকজন পুরানো নাম আকবরনগর রাখতে চায়। পাশের গ্রামের মিরারচর গ্রামের লোকজন চায় আকবরনগর - মিরারচর বাজার নাম রাখতে। এতে আকবরনগর গ্রামের লোকজনের আপত্তি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের দুই গ্রামবাসী বাজারের নাম নিজেদের গ্রামের নামকরণ চায়। বিগত কয়েক বছর পূর্বে স্থানীয় শালিসি দরবারের মাধ্যমে বাজারের নাম আকবরনগর-মিরারচর নামকরণ করার সিদ্ধান্ত ছিলো। কিন্তু সিদ্ধান্ত অমান্য করে ইদানিং আকবরনগর গ্রামবাসীর চাওয়া তাদের গ্রামের নামে বাজারের নামকরণ করা হয়েছে। এই নিয়ে বিগত কয়েকদিন ধরে দুই গ্রামে তুমুল উত্তেজনা ছিলো। তারই জের ধরে আজ সোমবার সকালে দুইদল গ্রামবাসী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে মিরারচর গ্রামের পক্ষে মাসুদ মিয়া নামের এক যুবক গুরুতর আহত হলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত্যু ঘোষণা করে। এসময় সংঘর্ষে উভয়পক্ষের প্রায় অর্ধশত লোক আহত হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডাক্তার মো. আবদুল করিম জানান, দুটি গ্রামের সংঘর্ষের ঘটনায় হাসপাতালে প্রায় ৩০ জন চিকিৎসা নিয়েছে। তার মধ্যে মাসুদ নামের একজন মারা গেছে এবং হিরন নামের একজন গুরুতর আহতের অবস্থা খারাপ। এছাড়া ৯ জনকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. ইউছুফ জানান, দুটি গ্রামের সংঘর্ষের সময় গ্রামবাসী রেললাইন অবরোধ করে রাখে। ফলে এগারসিন্ধু ও বিজয় এক্সপ্রেস দুটি ট্রেন ভৈরব ও কুলিয়ারচর স্টেশনে সকালে আটকা পড়ে। পরে সংঘর্ষ থামলে বিকেল সাড়ে তিনটায় ট্রেনগুলি ছেড়ে যায়। একারণে ৬ ঘণ্টা দুটি ট্রেন দুটি স্টেশনে আটকা ছিল। এতে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে বলে তিনি স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিমন বোস জানান, বাজারের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে মাসুদ মিয়া নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে ও অর্ধশত আহত হয় । এই সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, র্যাব এক যোগে কাজ করছেন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। তারপর অনেক চেষ্টায় ৬ ঘন্টা পর সংঘর্ষের পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। বর্তমানে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। এঘটনায় ভূক্তভূগিরা কেউ মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
আজকালের খবর/বিএস