বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই ২০২৬
সাংবাদিক সাঈদ হাসান খানের বাড়ি নির্মাণে বাধা, আদালতের স্থিতাবস্থা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩২ পিএম  আপডেট: ২৩.০৭.২০২৬ ৬:৩৯ পিএম  (ভিজিট : ৫)
চাঁদপুর সদর উপজেলার পাইকদী (খান বাড়ি) গ্রামে পৈর্তৃক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে দানা বেঁধেছে। এ বিরোধের জেরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের হওয়ায় আদালত সাময়িকভাবে নির্মাণকাজে স্থিতাবস্থা দিয়েছেন। যার ফলে নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। 

সাংবাদিক সাঈদ হাসান খান অভিযোগ করে বলেন, তিনি ঢাকায় প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক আজকালের খবর-এ কর্মরত।  তিনি মৃত আবুল হোসেন খানের ছেলে। পৈর্তৃক সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি এবং বড় ভাই লোকমান হোসেন খান ও তিন বোনের কাছ থেকে ক্রয়কৃত জমির ওপর বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। নির্মাণকাজ শুরু হলে তার সেজ ভাই মো. আবু হানিফ খান এতে বাধা দেন। 

অভিযোগকারীদের দাবি, নির্মাণকাজ চলাকালে আবু হানিফ খান ও তার সহযোগীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন এবং নির্মাণাধীন স্থাপনার কিছু অংশ ভাঙচুর করেন। পরে হানিফ খান আদালতে ১৪৫ ধারায় আবেদন করলে আদালত তদন্তের স্বার্থে দুই মাসের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এতে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।

ভুক্তভোগী সাঈদ হাসান খানের ভাষ্য, বাড়ি নির্মাণের জন্য আগে থেকেই রড, সিমেন্ট, বালুসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী ক্রয় করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় এসব সামগ্রী নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, এর ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভুক্তভোগী।

আবু হানিফ খানের সঙ্গে প্রতিবেশীদের অনেকের বিরোধ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সাঈদ খান। তিনি বলেন, তিনি শুধু আপন ভাই নয়, প্রতিবেশিদের সঙ্গেও মিলেমিশে চলতে পারনে না। তিনি সব সময় মুই কি হনু রে এরকম একটা ভাব নিয়ে থাকেন।  

অভিযোগকারীর দাবি, আবু হানিফ খান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধ, গালাগাল, মারধরের চেষ্টা, হুমকি এবং সালিশ বৈঠকের মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। 

স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক ঝুটনের অভিযোগ, একাধিকবার হানিফ খান  তাকে অপমান, গালাগাল ও মারধরের চেষ্টা করেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আশপাশের মানুষই এসব ঘটনার সাক্ষী। আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ ও মারধরের চেষ্টা করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, আবু হানিফ খান জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে এলাকায় নানা ভয়ভীতির চেষ্টা করেন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশি চাচাতো ভাই মো. খোরশেদ খন্দকার একটি রাজনৈতিক ব্যানার টাঙানোর পর সেটি অপসারণের জন্য তাকে হুমকি দেন তিনি। এমন কি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যানার না সরালে এলাকায় থাকতে পারবেন না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

একই পরিবারের সদস্য মোহাম্মদ আলী ও তার স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, তারা আবু হানিফ খানের ছোট ভাই মো. সাঈদ হাসান খানের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কারণে তাদের গালাগাল ও মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রতিবেশী ভাতিজা মো. সুজন খানের স্ত্রীও একই কারণে হেনস্তার শিকার হন। বর্তমানে সাঈদ হাসান খান ও তার পরিবার প্রতিবেশী মো. খোরশেদ খন্দকারের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এ কারণে খোরশেদ খন্দকারকেও নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

সাঈদ হাসান খান অভিযোগ করে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় থাকার সুবাধে বড় ভাই আবু হানিফ খান তার পৈর্তৃক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তি আত্মসাৎ করার উদ্দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও দখলের চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, "আমার ভাই আমার পৈর্তৃক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে আমাকে এলাকায় বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছেন। প্রতিবেশীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে যেন কেউ আমাকে আশ্রয় না দেয়, সেই চেষ্টাও চলছে।"

সাঈদ হাসান খান আরও অভিযোগ করে বলেন, আমার বাবার রেখে যাওয়া একটি ছোট টিনশেড ঘর ছিল, যা আমার নিজস্ব জায়গার ওপর ছিল। আবু হানিফ খান জোরপূর্বক আমাদের সেই ঘর দখলের উদ্দেশে ঘরটি খুলে টিনগুলো কেজি দরে বিক্রি করে দেন। এরপর আমার জায়গার ওপর থাকা ঘরের মাটি কেটে সেখানে রাস্তা তৈরি করে বর্তমানে চলাচল করছেন। এসব কর্মকাণ্ড আমার জায়গা জোরপূর্বক দখল করার একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টারই অংশ বলে আমার কাছে মনে হয়।

এ বিষয়ে মো. আবু হানিফ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার কিছু শর্ত পূরণ না হলে ওই জমিতে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ করতে দেওয়া হবে না। তার দাবি, নিজের নামে থাকা ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করে দিতে হবে। এছাড়া ছোট ভাইয়ের ক্রয়কৃত জমি থেকে তিন শতক জমি দিতে হবে। একই সঙ্গে পৈর্তৃক সূত্রে প্রাপ্ত ৪ শতক ৯৪ পয়েন্ট সম্পত্তির যে অংশ বর্তমানে পুকুর হিসেবে রয়েছে, সেটি ছোট ভাইকে নিজ খরচে ভরাট করে দিতে হবে। অন্যথায় তিনি সেখানে বাড়ি নির্মাণ করতে দেবেন না বলে জানান।

এসব দাবির আইনগত ভিত্তি কী প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমার নামে ব্যাংক ঋণ আছে। আমার খালি জায়গা ভরাট করে দিতে হবে। এগুলো না করলে আমি কাজ করতে দেব না। তবে এসব দাবির পক্ষে তিনি কোনো আইনি দলিল বা ভিত্তি দেখাতে পারেননি।

আরেক উত্তরাধিকারীর সম্পত্তি নিয়েও বিরোধের অভিযোগ-

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সাঈদ হাসান খানের আরেক ভাই মৃত সুলতান আহমেদ খানের স্ত্রী ও কন্যা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তিতে বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও সেখানেও আবু হানিফ খান বাধা দেন। কারণ মৃত সুলতান খানও চাকরি সূত্রে ঢাকায় থাকতেন। বাড়ি নির্মাণের জন্য গেলে আবু হানিফ বলেন, এতদিন কোথায় ছিলেন? এখানে কাউকে বাড়ি নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না।" ফলে তারাও নিজেদের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি ভোগদখল করতে পারছেন না। 

মৃত সুলতান খানের  কন্যা বলেন, বাবা মৃত্যুর আগে আমাদের জন্য তেমন কোনো সম্পদ রেখে যেতে পারেননি, যা ব্যবহার করে আমরা বসবাস করতে পারি। বর্তমানে আমরা ঢাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকি, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। তাই মৃত সুলতান খানের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারসূত্রে যে সম্পত্তি আমরা পেয়েছি, সেখানে একটি ঘর নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চাই। কিন্তু এ বিষয়ে  চাচা মো. আবু হানিফ খানের সঙ্গে কথা বললেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝিয়ে দিচ্ছেন না এবং সেখানে বাড়ি নির্মাণেও বাধা দিয়ে আসছেন। 

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য সাত্তার খান বলেন, পারিবারিক ঈর্ষা ও বিরোধের কারণেই ছোট ভাইকে নিজ জমিতে বাড়ি নির্মাণ করতে দেওয়া হচ্ছে না। অতীতে মো. আবু হানিফ খান ও তার স্ত্রীর দায়ের করা বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমার ঘটনায় ও পারিবারিক বিরোধে পরিবারের জমিজমা, ঘরবাড়ি ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরিবর্তে উল্টো বিভিন্ন দাবি তোলা হচ্ছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, আবু হানিফ খান ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় আবেদন করে দাবি করেছেন, জমির দখল নিয়ে বিরোধ থাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে অভিযোগকারীদের দাবি, আবেদনপত্রে উত্থাপিত তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং বৈধভাবে প্রাপ্ত ও ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে নির্মাণকাজ বন্ধ করার উদ্দেশ্যেই মামলাটি করা হয়েছে। 

আজকালের খবর/বিএস 








আরও খবর


Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft