ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, সম্প্রীতি ও লোকজ সংস্কৃতির আবহে গাজীপুরে শুরু হয়েছে ভাওয়াল রাজাদের শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী মানিক্য মাধবের রথযাত্রা-২০২৬।
বৃহস্পতিবার ( ১৬ জুলাই) সকালে গাজীপুর প্রেসক্লাব সংলগ্ন বটমঞ্চে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও ঐতিহ্যবাহী রথ টানার মধ্য দিয়ে রথযাত্রার সূচনা হয়। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে ২০ দিনব্যাপী রথমেলা। আগামী সাত দিন চলবে রথযাত্রার ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা।
রথযাত্রার সূচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. মঞ্জুরুল করিম রনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও রথমেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শহীদউজ্জামান, আহম্মদ আলী রুশদী, সাবেক কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র হাসান আজমল ভূঁইয়া, গাজীপুর মেট্রো সদর থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান এলিস, গাজীপুর মহানগর কৃষক দলের সদস্য সচিব খান জাহিদুল ইসলাম নিপু, গাজীপুর সদর মেট্রো থানা যুবদলের আহ্বায়ক নাজমুল খন্দকার সুমন, গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারহাজ বিন ফয়েজ প্রবাল, গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রোহানুজ্জামান শুক্কুরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে হাজারো ভক্ত-দর্শনার্থীর অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী রথ টানার কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। গাজীপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ভক্তদের উপস্থিতিতে রথখোলা ও আশপাশের এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সম্প্রীতি ও লোকজ ঐতিহ্যের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো আয়োজন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম. মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, শ্রী শ্রী মানিক্য মাধবের রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি গাজীপুরের ঐতিহ্য, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বাঙালির লোকজ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বলেন, বিএনপি অতীতের মতো বর্তমানেও হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। রথযাত্রা ও রথমেলা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীরাও সহযোগিতা করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, রথযাত্রা ও রথমেলাকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং দর্শনার্থীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
রথখোলা এলাকায় ইতোমধ্যে বসেছে শতাধিক দোকান, নাগরদোলা, সার্কাস, পুতুল নাচ, শিশুদের বিনোদনের বিভিন্ন আয়োজন এবং দেশীয় হস্তশিল্প, খেলনা, মিষ্টান্ন ও গৃহস্থালি সামগ্রীর স্টল। ফলে ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি মেলাকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে প্রাণবন্ত লোকজ সংস্কৃতির এক বর্ণিল আয়োজন।
জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা ও রথমেলা গাজীপুরের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে পরিচিত। আয়োজকদের প্রত্যাশা, আগামী ২০ দিন বিপুল দর্শনার্থীর সমাগমে মুখর থাকবে মেলা প্রাঙ্গণ। একই সঙ্গে এ আয়োজন ধর্মীয় সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
আজকালের খবর/বিএস