মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। রাজধানী কুয়ালালামপুরসহ দেশের ১৬টি স্থানে টানা দুই দিনব্যাপী পরিচালিত সমন্বিত অভিযানে ৫০৩ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে বিদেশিদের অবস্থানের ২০০টিরও বেশি ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করে সেখানে আরও জোরালো অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, সোমবার পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে অভিবাসন বিভাগ, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন) এবং অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থার ৮৭৬ জন কর্মকর্তা ও সদস্য অংশ নেন।
তিনি বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পরিচালিত অভিযানে মোট ২ হাজার ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক ও নিয়োগকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তল্লাশি করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ৫০৩ জনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভিসা বা পাসের অপব্যবহার, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান, মেয়াদোত্তীর্ণ পাস ব্যবহার এবং বৈধ ভ্রমণপত্র ছাড়া মালয়েশিয়ায় বসবাসসহ বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানান মহাপরিচালক।
তিনি আরও জানান, বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১২০ জন নিয়োগকর্তা ও অভিভাবকের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছে। তাদের নির্ধারিত সময়ে অভিবাসন বিভাগে হাজির হয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হবে।
সোমবার কুয়ালালামপুরের জালান কেনাঙ্গা এলাকায় অভিযান শেষে সংবাদ সম্মেলনে দাতুক জাকারিয়া শাবান বলেন, দেশজুড়ে বিদেশিদের অবস্থানের ২০০টিরও বেশি ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০০টির বেশি ক্লাং উপত্যকা এলাকায় অবস্থিত। এসব এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে আরও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।
অবৈধ অভিবাসীদের বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশিদের ব্যাপারে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। তাদের অবাধে বিচরণের সুযোগও দেওয়া হবে না। তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, অবৈধ অভিবাসী এবং তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে আগামী দিনগুলোতে আরও কঠোর ও ব্যাপক অভিযান চালাতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ।
আজকালের খবর/বিএস