যৌবনে নিজের সংসার গড়ার সুযোগ থাকলেও নানা কারণে আর বিয়ে করা হয়নি। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে যৌবন, এসেছে বার্ধক্য। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নেই স্ত্রী, নেই সন্তান, নেই আপনজনের সঙ্গ। ডোবার ওপর বাঁশ ও টিনের তৈরি ছোট্ট একটি চালাতেই মানবেতর জীবন কাটছে আশির্ধ্ব চিরকুমার কৈলাশের।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ঘগোয়া গ্রামের এক কোণে ডোবার ওপর নির্মিত জীর্ণ চালাটিই এখন তাঁর একমাত্র আশ্রয়। দূর থেকে পরিত্যক্ত ঘর মনে হলেও কাছে গেলে দেখা মেলে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এক অসহায় বৃদ্ধের।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চল্লিশের দশকে ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙনে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চলনা গ্রামের বসতভিটা হারিয়ে পরিবারসহ সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ঘগোয়া গ্রামে বড় বোন সিন্ধু বালার বাড়িতে আশ্রয় নেন কৈলাশ। এরপর বোনের সংসারেই কেটে যায় তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিভিন্ন ধরনের কাজ করে বোনের সংসারের দায়িত্ব পালন করেছেন কৈলাশ। কিন্তু নিজের সংসার গড়ার সুযোগ আর হয়ে ওঠেনি। বিয়েও করেননি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ঠিকমতো শুনতে পান না, স্পষ্ট করেও কথা বলতে পারেন না।
এরই মধ্যে মারা গেছেন তাঁর বড় বোন সিন্ধু বালা ও দুলাভাই বিপিন। নিজের নামে কোনো জমিজমা কিংবা স্থায়ী আয়ের উৎস না থাকায় চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে তাঁর।
প্রতিবেশীরা জানান, স্থানীয়দের দেওয়া খাবার ও সামান্য সহায়তায় কোনোমতে বেঁচে আছেন কৈলাশ। অসুস্থ হলেও নিয়মিত চিকিৎসার ব্যবস্থা হয় না। বর্ষাকালে ডোবার পানি বেড়ে গেলে তাঁর দুর্ভোগ আরও বাড়ে। ঝড়-বৃষ্টির রাতে জীর্ণ চালাটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় তাঁকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যৌবনে অন্যের সংসারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের ভবিষ্যতের কথা ভাবার সুযোগ পাননি কৈলাশ। তাই জীবনের শেষ সময়ে তাঁর জন্য একটি নিরাপদ বাসস্থান, বয়স্ক ভাতা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, সরকারি সহায়তা কিংবা সমাজের বিত্তবান মানুষের মানবিক উদ্যোগ পেলে জীবনের শেষ সময়টুকু অন্তত একটু স্বস্তিতে কাটাতে পারবেন অসহায় এই বৃদ্ধ।
আজকালের খবর/রাশেদুল মিলন