দেশের বৃহৎ শিল্প ও ব্যাবসায়িক গ্রুপগুলোর উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রবিবার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান ব্যাংকটির মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
জটিলতা সমাধানে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে। আরিফ হোসেন খান বলেন, অনেক সময় বড় প্রতিষ্ঠান এমন সমস্যায় জর্জরিত হয়, সেটা সরাসরি সলভ (সমাধান) করা যায় না। কিন্তু আমরা কিছু জটিলতা সমাধান করে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগোষ্ঠীগুলো সাময়িক আর্থিক সংকটে পড়লেও, তাদের কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় এবং বাজারে পণ্য ও সেবার সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
আরিফ হোসেন খান বলেন, দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং খাতের বড় অঙ্কের ঋণ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম জড়িত। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠান সাময়িক সংকটে পড়লে সেটির প্রভাব যাতে পুরো অর্থনীতিতে না পড়ে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।
জানা গেছে, দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ খাদ্যপণ্য, সিমেন্ট, টিস্যু, স্টিল, এলপিজিসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছে। এ ছাড়া তেল, আটা, ময়দা, সুজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যে সরবরাহ করে আসছে সিটি গ্রুপসহ কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী।
দেশের অর্থনীতি সচল, কর্মসংস্থান তৈরি এবং বাজারে নিত্যপণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখছে শিল্পগোষ্ঠীগুলো। তবে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, রাজনৈতিক অবস্থা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে আর্থিক সংকটে পড়েছে দেশের বড় এসব শিল্পগোষ্ঠী। প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণের চাপে পড়েছে সিটি গ্রুপ। এরপর আলোচনায় আসে ব্যাংকঋণ, ঋণ পুনর্গঠন ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সহায়তা। আর্থিক সংকটে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানকে সংকট থেকে বের করে আনতে ব্যাংকগুলো সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে।
এসব সহায়তার ক্ষেত্রে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর মধ্যে সমন্বয়, ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ, প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক সুবিধা এবং উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান মুখপাত্র।
এসব উদ্যোগ কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া নয় বলেও জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে। এই সহায়তার মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, কর্মসংস্থান রক্ষা করা এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই উদ্দেশ্য।
আজকালের খবর/বিএস