গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ও সোনারায় ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃত্রিমভাবে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দেওয়ায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকায় সরকারি কালভার্ট ও সেতু থাকলেও পানি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় শত শত একর তিন ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে চলতি মৌসুমে আমন চাষ পুরোপুরি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় শত শত কৃষক। এ পরিস্থিতির প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী কৃষকরা জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনমত, তালুক ফলগাছা, মনিরাম, মনিরাম কাজী এবং সোনারায় ইউনিয়নের পশ্চিম শিবরাম এলাকার বর্ষাকালীন বৃষ্টির উজানের পানি ওই এলাকার ৫টি ব্রিজের মাধ্যমে উত্তর ও পশ্চিম দিক থেকে পশ্চিম শিবরাম মৌজার নিচু এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পূর্ব দিকে চলে যেত। কিন্তু সম্প্রতি ওই এলাকার মৃত আজিজল হকের ছেলে মোঃ এমদাদুল হক নিশিত তার ইটের ভাটার জন্য পুকুর থেকে মাটি পরিবহনের সুবিধার্থে পানি প্রবাহের নিচু এলাকায় উঁচু করে একটি রাস্তা তৈরি করেন। এতে পানি প্রবাহ সম্পূর্ণরূপেই বন্ধ হয়ে যায়।
এরই মধ্যে চলমান বৃষ্টির পানি জমে ওই এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, যা কৃষকদের শত শত একর জমিকে আমন চাষের সম্পূর্ণ অযোগ্য করে তুলেছে। এর পাশাপাশি ওই এলাকার মোঃ শমেস উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি তার ৪০ বিঘা জমির পুকুরের পাড় তৈরি করতে গিয়ে সরকারি রাস্তায় পানি প্রবাহের খোলা জায়গায় মাটি ভরাট করেছেন। ফলে পানি নিষ্কাশনের পথটি পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এক সময়ের উর্বর ও তিন ফসলি জমিগুলো এখন কৃত্রিম জলাবদ্ধতার কারণে এক ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে। কৃষকরা এখন কেবল বোরো মৌসুমে কোনোমতে একবার ধান উৎপাদন করতে পারছেন। আর আমন মৌসুমে পুরো এলাকাটি ছোট ছোট পুকুরের মতো রূপ ধারণ করে। বিশাল এলাকাজুড়ে এখন শুধু থৈ থৈ পানি আর শেওলা।
বর্তমানে যখন উপজেলাজুড়ে পানির সংকটের কারণে কৃষকরা সেচ যন্ত্রের সাহায্যে আমনের চারা রোপণ করছেন, তখন এই অঞ্চলের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। এখানে শত শত একর জমি পানির নিচে তলিয়ে থাকায় কৃষকরা হাহাকার করছেন। আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। জমিতে চাষাবাদ করতে না পারায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে অভিযোগে।
এলাকার ভুক্তভোগী কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কোটি টাকা খরচে কালভার্ট ও ব্রিজগুলো তৈরি হলেও এখন তা কোনো কাজে আসছে না। প্রভাবশালীরা বিভিন্ন স্থানে জমি উঁচু করে ভরাট করছে এবং খামার তৈরি করে পানি বের হওয়ার স্বাভাবিক রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা চরম দুর্ভোগে আছি, দ্রুত এর সমাধান চাই।"
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এমদাদুল হক নিশিত ও শমেস উদ্দিন জানান, শুধু তাদের কারণে এই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়নি। বিভিন্ন স্থানে অনেকেই নিজেদের মতো করে জমি ভরাট করেছেন এবং সার্বিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা এই কৃত্রিম জলবদ্ধতা নিরসন এবং ফসলি জমি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দ্রুত ও কার্যকর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব