লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় সাজু ইসলাম ও হাসান মাহমুদ নামে দুই সাংবাদিককে মারধর করে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে জামায়াত কর্মী আবু হারেজ হাসুর বিরুদ্ধে। মারধর করার আগে সাংবাদিক সাজুর চাচাতো ভাইকে মোবাইলফোনে হুমকি দেয় হাসু। সেই হুমকির অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধার পর উপজেলার ডাক বাংলা এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত সাংবাদিক সাজু ইসলাম দৈনিক বিজনেস বাংলাদেশর হাতীবান্ধা উপজেলা প্রতিনিধি ও হাসান মাহমুদ দৈনিক কালের কন্ঠ এবং এনটিভির উপজেলা প্রতিনিধি।
অভিযুক্ত আবু হারেজ হাসু উপজেলার টংভাঙ্গা ১নং ওয়ার্ডের লাল চাঁনের ছেলে। এছাড়া সে জামায়াতের কর্মী।
জানা গেছে, সারকারি ডাক বাংলোর জমি দখল ও চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ৪তলা পাকা রাড়ি নির্মাণ শুরু করে আজগর আলী মনা। এতে বাধা দেয় স্থানীয়রা কিন্তু তারা বাধা উপেক্ষা করে বাড়ির কাজ করতে থাকে। এমন অবস্থায় স্থানীয়রা হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনওসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেন। এরেই পেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার তদন্ত করতে আসেন টংভাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের লোকজন। এ সময় তাদের সাথে ঘটনাস্থলে যায় সাজু ও হাসান সাংবাদিক। আর এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অতর্কিতভাবে সাংবাদিককের ওপর হামলা করে মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেয় মনার স্ত্রী গোলাপী তার ভাগিনা হাসু। পরে স্থানীয়রা সাংবাদিক সাজু ও হাসান মাহমুদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভাইরাল হওয়া অডিওতে হাসু অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে বলেন, আমাদের নিয়ে যদি লেখালিখি আরও করা হয় তাহলে মহিলা দিয়ে তাদেরকে মারধর করে মামলা দিয়ে দিবো।
এ বিষয়ে সাংবাদিক সাজু বলেন, হাসু ও তার লোকজন অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা করেছে থানায় অভিযোগ করেছি এর সুষ্ঠ বিচার চাই।
এ বিষয়ে সাংবাদিক হাসান মাহমুদ বলেন, হাসু ও তার লোকজন অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমার মোবাইলফোন ছিনিয়ে নিয়েছে। এখন পর্যন্ত ফোন উদ্ধার হয়নি।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইলিয়াস বসুনিয়া পবন বলেন, আমাদের দুই সাংবাদিককে মারধর করে মোবাইল ছিনতাই করে নিয়েছে। থানায় অভিযোগ করা হয়েছে যদি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তাহলে আমরা কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবু হারেজ হাসুর ০১৭১৮৯৭২৪৫১ মোবাইলফোনে ফোন করা হলে ফোনটি কেটে দেন।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপ জন মিত্র বলেন, অভিযোগের পেক্ষিতে আমি টংভাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছি। তদন্তের জন্য গেলে সেখানে গন্ডগোল ঘটে। আমার নির্দেশে সেখানে তদন্ত করতে গেলে গন্ডগোল হয়, তা মোটেই কাম্য নয়।
আজকালের খবর/বিএস