কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ঐতিহাসিক সোনাহাট সেতুর স্টিলের পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় বুধবার সকাল থেকে সব ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। একটি বালুবাহী ড্রাম ট্রাক সেতুর ওপর আটকে পড়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যার ফলে সেতুর দুই প্রান্তে পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ১ হাজার ২০০ ফুট দীর্ঘ এই সেতুটির বিভিন্ন স্থানের স্টিলের পাটাতন ভেঙে গেছে এবং লোহার প্লেট খুলে গেছে। এরপরও প্রতিদিন শত শত যানবাহন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছিল। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৮৭ সালে রেলপথ নির্মাণের অংশ হিসেবে দুধকুমার নদের ওপর এই সেতুটি নির্মিত হয়। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ার পর সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে এটি সংস্কার করে সড়ক যোগাযোগ চালু করা হয়। নির্মাণকালে সেতুটির আয়ুষ্কাল ১০০ বছর নির্ধারণ করা হলেও বর্তমানে এর বয়স প্রায় ১৪০ বছর, অর্থাৎ ৪০ বছর আগেই এর মেয়াদ শেষ হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সেতুটি স্থায়ীভাবে অচল হয়ে গেলে সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে।
এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুর পাশে ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ মিটার দীর্ঘ নতুন সোনাহাট সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হলেও আট বছর পেরিয়ে গেলেও তা শেষ হয়নি। দুই বছরের কাজ আট বছরেও শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের ক্ষোভ ও দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। তারা দ্রুত নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ জানান, সেতুটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে এবং অতিরিক্ত পণ্য বহনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ আশ্বাস দিয়ে বলেন, সেতুটি দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সংস্কারকাজ শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব যান চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব