গাজীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালনরত এক অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটরের (এডিশনাল পিপি) ওপর প্রকাশ্যে ছুরি দিয়ে হামলা, হত্যাচেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে আদালত অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে আদালতের মতো সর্বোচ্চ বিচারিক পরিবেশে সংঘটিত এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনজীবী মহল ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সদর থানায় দায়ের করা মামলা ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১১টায় গাজীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালন করছিলেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মনির হোসেন। এ সময় একটি দাপ্তরিক বিষয়কে কেন্দ্র করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আবু তাহের নয়নের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে আবু তাহের নয়ন উত্তেজিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। বিষয়টি আদালতের পাশের কক্ষে অবস্থানরত অন্যান্য আইন কর্মকর্তাদের জানানো হলে তিনি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর তার কাছে থাকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে মনির হোসেনের মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করেন। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলেও আঘাতটি তার ডান ভ্রুর ওপর লাগে এবং তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আহত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে গেলে অভিযুক্ত তার বুকের ওপর উঠে বসে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা করেন। আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত আইনজীবী ও অন্যান্য ব্যক্তি দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হয়।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, ঘটনার পর অভিযুক্ত তাকে ভবিষ্যতে হত্যা, ক্ষতিসাধন এবং নিজের ক্ষতি করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেন। এ কারণে তিনি নিজের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর শঙ্কায় রয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন।
হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত মনির হোসেনকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক তার কপালের ক্ষতস্থানে সেলাই দেন। চিকিৎসাধীন থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে থানায় যেতে না পারায় পরে সুস্থ হয়ে ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩২৬, ৩০৭ ও ৫০৬ ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
মামলার তদন্তভার সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের তথ্য, চিকিৎসা প্রতিবেদন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আইনজীবীদের মতে, আদালত প্রাঙ্গণ এমন একটি স্থান যেখানে বিচারপ্রার্থী, বিচারক, আইনজীবী ও বিচার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে দায়িত্ব পালনরত একজন আইনজীবীর ওপর প্রকাশ্যে হামলার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন।
তবে সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট আবু তাহের নয়নের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা একই গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
আজকালের খবর/বিএস