তুরাগ নদীতে আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মীর লাশ ভেসে ওঠার খবরটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘গুজব’ বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া এই অপপ্রচারের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের অপপ্রচারের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) এবং বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তুরাগ নদীতে লাশ ভাসার যে খবর ছড়ানো হয়েছে, বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। তিনি বলেন, "এই মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সমাজে এক ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মে "তুরাগ নদীতে আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর লাশ ভাসছে" শিরোনামে একটি তথ্য প্রচার করা মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও গুজব। গাজীপুর মহানগর পুলিশের এলাকাধীন তুরাগ নদীতে এ ধরণের কোন লাশ পাওয়া যায়নি। শুধু তাই নয়, জিএমপির ৮টি থানার কোনটিতে কোন নিখোঁজ জিডি হয়নি বা নিখোঁজের কোন সংবাদ পাওয়া যায়নি।
তিনি আরো জানান, জিএমপি, গাজীপুর এর তুরাগ নদী ও পাশ্ববর্তী এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের কোন মিছিল সংঘটিত হয়নি। যোগাযোগমাধ্যমে যে তথ্যটি ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা্ ও বানোয়াট।
পুলিশ কমিশনার আরো বলেন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সঠিক তথ্য নিশ্চিত করতে সর্বদা দায়িত্বশীল ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। গাজীপুর মহানগর পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা সতর্ক রয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন, কেউ যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করে, তবে মিথ্যা অপপ্রচারকারীদের চিহ্নিত করে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে নাগরিকদের অবশ্যই তার সত্যতা যাচাই করে নেওয়া উচিত। একই সাথে তিনি সকলকে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সঠিক তথ্য প্রচারে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য জিএমপি এলাকাবাসী তথা দেশবাসীকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।
শনিবার (২৭ জুন) বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘তুরাগ নদীতে ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মীর লাশ ভাসছে’ শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে তথ্যটি ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এ ধরনের কোনো ঘটনার তথ্য বা অভিযোগ আসেনি।
উদ্দেশ্য: একটি মহল পরিকল্পিতভাবে জনমনে আতঙ্ক তৈরি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় এই গুজব ছড়াচ্ছে।
তৎপরতা: গুজব রটনাকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশের সাইবার ও গোয়েন্দা ইউনিটগুলো ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে।
আহ্বান: দেশবাসীকে যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো তথ্য বিশ্বাস বা শেয়ার না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জিএমপি-র একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই অপপ্রচারের পেছনের মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে পুলিশি অভিযান চলমান রয়েছে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
আজকালের খবর/ এমকে