কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি হ্রাস পেতে শুরু করলেও জেলাজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র নদীভাঙন। গত রাত থেকে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানি ৫ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত কমেছে। তবে পানি কমার সাথে সাথেই নদীগুলোর অন্তত ৩০টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে।
ভাঙনের মুখে পড়ে ভিটা-মাটি, গাছপালা, ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। অন্যদিকে নদী তীরবর্তী এলাকার বিভিন্ন ফসলের মাঠ এখনো পানিতে নিমজ্জিত থাকায় চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার কৃষক জমশেদ আলী জানান, ধরলা নদীর পানিতে তার এক বিঘা জমির পটলের ক্ষেত তলিয়ে আছে। দ্রুত পানি নেমে না গেলে পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, পানি দ্রুত নেমে গেলে নিমজ্জিত ফসলের বড় কোনো ক্ষতি হবে না। পানি কমার সাথে সাথে কৃষকদের ফসলের বিশেষ পরিচর্যা করার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম জানান, ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে, যার ফলে বড় কোনো বন্যার আশঙ্কা নেই। তবে ভাঙনের বিষয়ে তিনি স্বীকার করেন যে, জরুরি বরাদ্দ না পাওয়ায় ভাঙনকবলিত সব এলাকায় সমানভাবে প্রতিরক্ষা কাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব