নওগাঁর বদলগাছীতে সরকারি হাট-বাজারে খাস খাজনা আদায়কে কেন্দ্র করে অনিয়ম, অস্বচ্ছতা এবং সরকারি রাজস্ব লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে প্রভাবশালী একটি পক্ষ প্রশাসনের সাথে আঁতাত করে হাট নিয়ন্ত্রণ করছে, যার ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বদলগাছী উপজেলার কোলা, ভান্ডারপুর, পারসোমবাড়ী, চাঁদপুর ও বদলগাছী সদর—এই পাঁচটি হাট উপজেলার সবচেয়ে বড় এবং এখান থেকে প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব অর্জিত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, চলতি বছর ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীরা যোগসাজশ করে কাউকেই হাটের দরপত্র (টেন্ডার) দাখিল করতে দেয়নি। পরবর্তীতে হাটগুলো সরকারি খাস আদায়ের আওতায় গেলে তারা প্রশাসনের সাথে আঁতাত করে নিজেরা খাজনা আদায় শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, নামমাত্র অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেখিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
শনিবার (২০ জুন) বদলগাছী সদর হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক আবু রাইহান গিটারের লোকজন হাটের বিভিন্ন খাত থেকে খাজনা আদায় করছেন। তবে হাটের কোথাও সরকার নির্ধারিত খাজনার চার্ট বা তালিকা টানানো হয়নি, যা সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী।
খাজনা আদায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট আবু আশারী নামে এক ব্যক্তি জানান, "হাটটি খাস আদায়ের আওতাভুক্ত হলেও আমরা জানি আবু রাইহান গিটার অফিস থেকে এটি লিজ নিয়েছেন।" এ বিষয়ে জানতে আবু রাইহান গিটারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "এ বিষয়ে সাক্ষাতে কথা বলবো।" এরপরই তিনি ফোন কেটে দেন।
এদিকে হাটে কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও চরম অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে ৪০ কেজিতে এক মণ হিসেবে কাঁচামাল ক্রয়ের পরিপত্র জারি থাকলেও এই হাটে ৪২ থেকে ৪৩ কেজিতে মণ হিসেবে পণ্য কেনাবেচা হচ্ছে। এতে সাধারণ কৃষকেরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, "বদলগাছী সদর হাট ও বাজারে বর্তমানে খাস খাজনা আদায় করা হচ্ছে।" তবে সচেতন মহলের দাবি, সরকারি রাজস্বের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এ বিষয়ে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব