“নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা ছাত্রদল নেতা ছৈদুল আমিনকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদে ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন” শীর্ষক সংবাদ সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানীয়, জাতীয় ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব সংবাদে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী ইসমাইলের পরিবার।
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, কথিত ছাত্রদল নেতা ছৈয়দুল আমিন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবার ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি তাদের একটি মাদকের চালান বিজিবির হাতে আটক হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ১০ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে মুছা খলিল নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাজের কথা বলে ইসমাইলকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে খুরশিদ আলমের রাবার বাগানে নিয়ে ছৈয়দুল আমিন, তার ভাই রুহুল আমিন ও তাদের সহযোগীরা দা, রডসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ইসমাইলকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়।
অভিযোগে বলা হয়, হামলার সময় ছৈয়দুল আমিন তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইসমাইলকে কোপ দিলে তা বাম চোখের ভ্রুতে লাগে এবং তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। এছাড়া মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়।
পরিবারটি আরও দাবি করে, ছৈয়দুল আমিন ও তার সহযোগীরা প্রকৃতপক্ষে ভূমিদস্যু ও চোরাকারবারি চক্রের সদস্য। ঘটনার সময় তিনি ঢাকার ফকিরাপুল এলাকার একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা হত্যাচেষ্টা মামলার দায় এড়াতে সাজানো নাটক ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার ছাড়া কিছুই নয়।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের একটি ক্ষুদ্র অংশ উপস্থিত ছিল, যারা ছৈয়দুল আমিনের অনুসারী। কিন্তু সাধারণ ও প্রকৃত ছাত্রদের বড় একটি অংশ তার কর্মকাণ্ডের বিরোধী হওয়ায় তারা ওই সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেয়নি।
ভুক্তভোগী পরিবারের প্রশ্ন, প্রায় ৪০ বছর বয়সী একজন ব্যক্তি, যিনি পূর্বে কৃষক দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তিনি কীভাবে এখনও ছাত্রদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দেন?
পরিবারটি জানায়, হামলার ঘটনায় পর্যাপ্ত চাক্ষুষ সাক্ষী, চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র ও হাসপাতালের রিপোর্টের ভিত্তিতে ১৫ জুন ২০২৬ তারিখ রাত ১২টা ১০ মিনিটে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মামলা নং-০৯ দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়া প্রকাশিত সংবাদে তাদের পরিবারকে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে আখ্যায়িত করারও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পরিবারের দাবি, তারা সাধারণ কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
তারা আরও উল্লেখ করেন, ২৯ আগস্ট ২০২৫ সালে প্রকাশ্যে দিবালোকে ছৈয়দুল আমিন কর্তৃক ইসমাইল ও তার ভাই শাহজাহানকে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ভুক্তভোগী পরিবার গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, প্রকৃত তথ্য যাচাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর ও একপাক্ষিক সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকা উচিত। একই সঙ্গে তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব