শনিবার ২০ জুন ২০২৬
সুন্দরগঞ্জে শত্রুতার আগুনে পুড়ল ১৪ দোকান
প্রকাশ: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৪:৫২ পিএম   (ভিজিট : ১)
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ধানের খড় শুকানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিরোধের জেরে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে ১৪টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ও মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় অর্ধকোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) ভোরে উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়নের ফোরকানিয়া বাজারে এই ঘটনা ঘটে।

বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর ৩টার দিকে হঠাৎ বাজারের একটি দোকানে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাজারে তাণ্ডব চালায়। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রাণপণ চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় তা সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে সুন্দরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন মুদি ব্যবসায়ী মো. লেবু মিয়া। তার দোকানের প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। এছাড়া মো. আজিজুর মিয়া লালটুর মুদি ও ভ্যারাইটিজ স্টোরে প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্যদের মধ্যে ওষুধের দোকানদার মো. আব্দুল মোহাইমেনের ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মো. আনোয়ারুল ইসলামের ১ লাখ টাকা, নওশা মিয়ার মুদি দোকানে ১ লাখ ২০ হাজার টাকাসহ ১৪ জন ব্যবসায়ীর দোকান মিলিয়ে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, ধানের খড় শুকানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তাদের ধারণা, ওই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে বাজারে আগুন দেওয়া হয়েছে। লাল্টু স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. আজিজুর রহমান ও লেবু মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, "বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বহু বছরের কষ্টে এই ব্যবসা গড়ে তুলেছিলাম। মুহূর্তের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেল। এখন আমরা পুরোপুরি নিঃস্ব। সরকারি সহায়তা না পেলে আমাদের পক্ষে আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়।"

সুন্দরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. লিটন জানান, ভোর ৩টা ৪০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনের সুনির্দিষ্ট সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।

শান্তিরাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মিজানুর রহমান খোকন বলেন, "ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তাদের সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।"

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, "বিষয়টি জানতে পেরেছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সরকারি সহায়তার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।"

আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব







আরও খবর


Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft