শনিবার ২০ জুন ২০২৬
কোটালীপাড়ায় ৬০ প্রান্তিক জেলে পেল বকনা বাছুর
প্রকাশ: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৩:০০ পিএম   (ভিজিট : ৩)
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ এবং প্রান্তিক জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে  ৬০ জন নিবন্ধিত জেলেদেরর মধ্যে ৬০ টি বকনা বাছুর বিতরণ করা হয়েছে।  এতে নতুন করে আশার আলো দেখছেন উপজেলার প্রান্তিক জেলেরা। সরকারের এ উদ্যোগে কোটালীপাড়ার প্রান্তিক জেলেদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। জীবিকা ও জীববৈচিত্র্য—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশায় নতুন স্বপ্ন দেখছেন তারা।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে কোটালীপাড়া সরকারি আদর্শ কলেজ মাঠে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের যৌথ আয়োজনে এসব বকনা বাছুর বিতরণ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ প্রকল্পের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম পাভেল।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম শাহজাহান সিরাজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা প্রকৌশলী সফিউল আজম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বসার হাওলাদার, পৌর বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী দাড়িয়া, সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউর রহমান হাওলাদার।

এ সময় উপকারভোগী জেলেরাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের প্রাকৃতিক জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক আজ হুমকির মুখে। অবৈধ ও ক্ষতিকর ‘চায়না জাল’ ব্যবহারের ফলে ছোট মাছ ও পোনা নিধন হচ্ছে, যা জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। একই সঙ্গে নির্বিচারে শামুক আহরণ জলজ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। এ অবস্থায় জেলেদের সচেতনতার পাশাপাশি বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি।

দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ প্রকল্পের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম পাভেল বলেন, “প্রাকৃতিক জলাশয়ে অবাধে চায়না জাল ব্যবহার দেশীয় মাছের জন্য বড় হুমকি। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে। সরকার নির্ধারিত সময় ও বিধিনিষেধ অনুসরণ করে মাছ আহরণ করলে আমাদের জলজ সম্পদ দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, “জেলেদের জীবিকা সুরক্ষায় বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। গবাদিপশু পালন করলে তারা নিয়মিত আয়ের সুযোগ পাবেন। এতে মাছের প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা সহজ হবে এবং আইন মেনে চলার প্রবণতাও বাড়বে।”

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম শাহজাহান সিরাজ বলেন, মৎস্য বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। অতীতে দেখা গেছে কেউ কেউ গরু নিয়ে বিক্রি করে দেন। তাই এবার বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কেউ যদি বিতরণ করা গরু বিক্রি করে দেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বকনা বাছুর পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপকারভোগী জেলেরা। তারা জানান, বছরের নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরা বন্ধ থাকলে সংসার চালাতে তাদের অনেক কষ্ট হয়। এখন গবাদিপশু পালন করে দুধ ও বাছুর বিক্রির মাধ্যমে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। এতে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, পর্যায়ক্রমে আরও নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে এ ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, নজরদারি ও আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করা হবে।

আজকালের খবর/রাশেদুল মিলন







আরও খবর


Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft