আগামীকাল রোববার (১৪ জুন) রাত চারটায় এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম বড় ম্যাচ। মাঠে নামবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ মরক্কো। কাতার বিশ্বকাপে নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে ফুটবল বিশ্বের মন জিতে নিয়েছিল আফ্রিকার দেশটি। ধারে-ভারে ব্রাজিলের থেকে কম হলেও মরক্কোকে হাল্কাভাবে নেওয়ার ভুল করবেন না ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। মরক্কোও আরও একবার অঘটন ঘটিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে মুখিয়ে রয়েছে।
২০০২ সালের পর থেকে আর বিশ্বজয়ের স্বাদ পায়নি সেলেসাওরা। ২৪ বছরের খরা কাটানোর চ্যালেঞ্জ নেইমার, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের সামনে। বিগত কয়েকটি বিশ্বকাপের ব্যর্থতা কাটাতে ১৯২৫ সালের পর প্রথম কোনো বিদেশি কোচকে ব্রাজিল দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আনচেলত্তি আসার পর ব্রাজিলের খেলার ধরনও বদলেছে। ব্রাজিলের শৈল্পিক ফুটবলের পাশাপাশি ইউরোপিয়ান ঘরানার গতিময় ও পাওয়ার ফুটবলের মিশ্রণ এবারের ব্রাজিল।
দলে একঝাঁক তারকা ফুটবলার থাকলেও ব্রাজিলের প্রথম একাদশ কেমন হবে, কোন ফর্মেশনে কোচ কার্লো আনচেলত্তি দলকে খেলাবেন তা নিয়ে কৌতুহল রয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে। বাস্তববাদী কোচ আনচেলত্তি ব্রাজিলের দায়িত্বে আসার পর থেকেই ৪-২-৪ এবং ৪-৩-৩ এই দুই ফর্মেশনের মধ্যে অদলবদল করে দল খেলাচ্ছেন। তবে মিশরের বিপক্ষে ব্রাজিলের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ দেখে মনে হচ্ছে, বিশ্বকাপে ৪-৩-৩ ফর্মেশনটিই বেশি দেখা যেতে পারে।
এই ছকে মাঝমাঠের মূল কাণ্ডারি হিসেবে একক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার পজিশনে খেলবেন ক্যাসেমিরো। আর তাঁর একটু সামনে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দেখা যাবে ব্রুনো গিমারায়েস ও লুকাস পাকেতাকে। আক্রমণভাগের বাঁ প্রান্তে থাকবেন গতিময় ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে আক্রমণভাগের নেতৃত্বে থাকবেন ইগর থিয়াগো। আর ডান প্রান্তে রাফিনিয়ার জায়গা পাওয়াটা প্রায় নিশ্চিত, সেখানে তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো কেউ নেই।
তবে নেইমার যদি পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠেন, কিংবা কুনিয়াকে খেলানো হয়, তবে দল ৪-২-৪ ফর্মেশনেও চলে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে রক্ষণভাগের মূল ভরসা হবেন দুই অভিজ্ঞ সেন্টার ব্যাক গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস ও মার্কিনহোস। আর গোলপোস্টের নিচে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে তো আছেনই দুর্দান্ত অ্যালিসন।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৪ সালে শেষবার যখন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ হয়েছিল তখন চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। সেবারও ১৯৭০ সালের পর ২৪ বছরের খরা কাটিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সাম্বা ব্রিগেড। এবার সেলেসাওদের সামনে ২৪ বছরের খরা কাটানোর চ্যালেঞ্জ। আমেরিকার মাটিতে ফের একবার ব্রাজিলের ভাগ্য সাথ দেয় কিনা তার উত্তর দেখার অপেক্ষায় বিশ্বজুড়ে ব্রাজিল সমর্থকরা।
আজকালের খবর/কবির