মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের ওল্ড ক্লাং রোড এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযান ‘অপস সুইপ’-এ ৭৮ অবৈধ বিদেশি অভিবাসীকে (পিএটিআই) আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ।
শনিবার (৬ জুন) মালয়েশিয়ার ফেডারেল টেরিটরি কুয়ালালামপুর অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম ডব্লিউপিকেএল) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযুক্ত বিদেশিদের বিরুদ্ধে এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি এবং বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। তাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও অবস্থান করা এবং সামাজিক ভিজিট পাসের অপব্যবহার করে অবৈধভাবে কাজ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযান চলাকালে অভিবাসন বিভাগের বিশেষ দল বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিদেশিদের বসবাসের সম্ভাব্য এলাকায় কৌশলগতভাবে ঘেরাও দেয়। অভিযানের শুরুতেই সম্ভাব্য পালানোর পথগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে কেউ পালিয়ে যেতে না পারে।
অভিযানকালে প্রত্যেক সন্দেহভাজন ব্যক্তির কাগজপত্র যাচাই এবং বায়োমেট্রিক পরীক্ষা সরাসরি ঘটনাস্থলেই সম্পন্ন করা হয়। কিছু বিদেশি সংকীর্ণ কক্ষ ও গোপন স্থানে লুকিয়ে আত্মগোপনের চেষ্টা করলেও অভিবাসন কর্মকর্তারা দ্রুত তাদের শনাক্ত করে আটক করতে সক্ষম হন।
বিস্তারিত যাচাই-বাছাই শেষে ৭৮ জনকে বৈধ পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথি প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ায় আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার ও ভারতের নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আটককৃতদের পরবর্তী তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য কুয়ালালামপুর ইমিগ্রেশন ডিপোতে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩, পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬ এবং ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩ অনুযায়ী তদন্ত চলছে।
জেআইএম ডব্লিউপিকেএল জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে এবং কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া বা নিয়োগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আজকালের খবর/ এমকে