দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রের কপাটহাট এলাকায় এক লাইব্রেরি ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, যে লাইব্রেরিতে বই থাকার কথা, সেখানে বইয়ের তাক দখল করে রয়েছে পেটি পেটি মদের বোতল।
অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে লাইব্রেরিটি কার্যত মদের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল গভীর রাতে কপাটহাট এলাকার ওই লাইব্রেরিতে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা অভিযান চালান। অভিযোগ, বহুদিন ধরেই এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহ ছিল যে লাইব্রেরিটি আর পাঠাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। তবে বাইরে থেকে তালাবন্ধ থাকায় ভিতরে কী রয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। সেই পরিস্থিতিতে বিজেপি কর্মীরা লাইব্রেরির সামনে গিয়ে তালা ভাঙার উদ্যোগ নেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, লাইব্রেরির দরজা খুলতেই উপস্থিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের চোখ কপালে ওঠে। ভিতরে বইয়ের তাক কার্যত ফাঁকা। যেখানে বই থাকার কথা, সেখানে সারি সারি মদের বোতল, কার্টন ও পেটি উদ্ধার হয় বলে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, লাইব্রেরিটি দীর্ঘদিন ধরেই অন্য কাজে ব্যবহার হচ্ছিল এবং এলাকায় বহুবার রাতের অন্ধকারে অস্বাভাবিক যাতায়াত লক্ষ্য করা গিয়েছিল।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ লাইব্রেরি থেকে উদ্ধার হওয়া মদের বোতল বাজেয়াপ্ত করে থানায় নিয়ে যায়। পাশাপাশি, কীভাবে একটি লাইব্রেরি মদের গুদামে পরিণত হল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং এর পিছনে অন্য কোনও অসামাজিক কার্যকলাপ ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের মদতেই লাইব্রেরিটি দখল হয়ে গিয়েছিল। ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি মহিলা মোর্চার সহ-সভাপতি শশী ঘোষ অভিযোগ করে বলেন, “তৃণমূল নেতা শামীম আহমেদ এই লাইব্রেরি দখল করে নিয়েছিলেন। লাইব্রেরিটি কার্যত তৃণমূলের পার্টি অফিসে পরিণত হয়েছিল। ভিতরে কোনও বই ছিল না, ছিল শুধু মদের বোতল। তৃণমূলের ব্যানার, মহিলাদের পোশাকও উদ্ধার হয়েছে। লাইব্রেরির আড়ালে অন্য কোনও অপকর্ম হতো কিনা, তা আমরা নিশ্চিত নই। পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করুক এবং দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করে শাস্তির ব্যবস্থা করুক।”
একই সুর শোনা গিয়েছে বিজেপির চার নম্বর মণ্ডলের সভাপতি রাজেশ হালদারের গলায়। তিনি দাবি করেন, “এই গ্রন্থাগার ব্যবহার করতে কোনওদিন কাউকে দেখিনি। প্রথম থেকেই এটি মদের আড্ডা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এখান থেকেই এলাকায় হার্মাদগিরি চালানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
আজকালের খবর/ এমকে