নেত্রকোনার হাওর জনপদ খালিয়াজুরী উপজেলার বিভিন্ন নৌপথে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ট্রলার মালিকদের বিরুদ্ধে। নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ আদায় করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা এ অবস্থাকে ‘ভাড়া ডাকাতি’ আখ্যা দিয়ে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষ করে খালিয়াজুরী সদর থেকে বোয়ালি বাজার এবং খালিয়াজুরী-উচিৎপুর নৌরুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। স্থানীয়দের দাবি, বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী হৃদয় দত্ত রায়। বুধবার (৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, “খালিয়াজুরী সদর থেকে বোয়ালি বাজার পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার নৌপথে যাত্রীপ্রতি ১৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, যা নৌপথে চলমান ভাড়া নৈরাজ্যের একটি উদাহরণ।”
তিনি আরও বলেন, এই পথে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিষয়টি তদন্ত করে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তার এ পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই নৌপথে ভাড়া নির্ধারণে প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খালিয়াজুরী-উচিৎপুর নৌরুটেও একইভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথে জনপ্রতি ২৫০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ২০২২ সালের প্রজ্ঞাপনে যাত্রী ভাড়া প্রতি কিলোমিটার ২ টাকা ৮৫ পয়সা নির্ধারণ করেছে। সে হিসেবে এই রুটে ভাড়া হওয়ার কথা প্রায় ৫৭ টাকা।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে জ্যৈষ্ঠ থেকে কার্তিক পর্যন্ত ট্রলারই তাদের প্রধান এবং প্রায় একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম। তাই বিকল্প না থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।
জানা গেছে, খালিয়াজুরী থেকে উচিৎপুরগামী যাত্রীদের কাছ থেকে দুই ধাপে ভাড়া আদায় করা হয়। খালিয়াজুরী থেকে বোয়ালি পর্যন্ত ১৫০ টাকা এবং বোয়ালি থেকে উচিৎপুর পর্যন্ত ১০০ টাকা নেওয়া হয়।
ট্রলার মালিক নিরধ দাস বলেন, “সব মালিক মিলে এই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ভাড়ার পরিমাণ কিছুটা বেশি হয়েছে, এটা স্বীকার করি।”
অপর ট্রলার মালিক শামছু মিয়া বলেন, “যাত্রী কম থাকে, আবার ঘাটে বেশি টোল দিতে হয়। তাই ভাড়া বাড়াতে হয়।”
তবে উচিৎপুর ট্রলার ঘাটের ইজারাদাররা দাবি করেন, তারা নির্ধারিত হারে টোল আদায় করেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায় ট্রলার মালিকদের ওপরই বর্তায়।
খালিয়াজুরী সদরের একটি এনজিওর কর্মকর্তা মো. শাহআলম বলেন, “গত সোমবার আমার ১০ বছর বয়সী মেয়ে খালিয়াজুরী থেকে মদনের উচিৎপুরে গেছে। ২০ কিলোমিটার পথের জন্য তাকে ২৫০ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অলিদুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
লেপসিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মনির মিয়া জানান লেপসিয়া থেকে কলাপাড়া নৌঘাট এর দূরত্ব চল্লিশ মিনিট ভাড়া দিতে হয় ৮০ টাকা।
অন্য নৌরুট খালিয়াজুরী থেকে চামড়া ভাড়া পরিমাণ সম্পর্কে জানা যায় গত বছরের তুলনায় তারা তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে ভাড়া বাড়িয়েছে ২০-৩০ টাকা এবং এপথের দূরত্ব ৪ ঘন্টা।
স্থানীয়দের দাবি, হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা নৌপথনির্ভর হওয়ায় দ্রুত তদন্ত করে ন্যায্য ভাড়া নির্ধারণ এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এতে সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে।
আজকালের খবর/ এমকে