গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় যৌতুকের দাবি ও পারিবারিক কলহের জেরে মারপিটের শিকার হয়ে রূপা বেগম (২৬) এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে কাশিয়ানী থানায় ১৫ জুন (সোববার) রাতে অভিযুক্ত স্বামীসহ তিন জনের নামে হত্যা মামলা রজু করা হয়েছে ।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, কাশিয়ানী উপজেলার ছোটখারকান্দি গ্রামেরমো. রেজাউল শেখের ছেলে মোহাম্মদ শেখের সাথে পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার বেজিডাঙ্গা গ্রামের মো. দেলোয়ার শেখের মেয়ে রূপার বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে মেয়েটিকে তার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি প্রায়ই গালিগালাজ ও মারধর করতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, গত সোববার (৮ জুন) বিকাল ৪ টার দিকে স্বামীর মোবাইলে ফেসবুক দেখা নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলে ওই গৃহবধূকে বেধড়ক মারপিট করে। এ সময় লোহার হাতুড়ির আঘাতে তার ঘাড়, গলা ও মাজায় গুরুতর জখম হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
অভিযোগকারী দাবি করেন, ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও পরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার ফরিদপুরে নিয়ে গেলে সেখানকার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় তিনি মারা যান।
নিহতের বাবার অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে মারপিট করে হত্যার উদ্দেশ্যেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার মেয়েকে আঘাত করেছে। এ ঘটনায় তিনি কাশিয়ানী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ফরিদপুর কোতয়ালী থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
কাশিয়ানী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, "অভিযোগ পেয়েছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবার দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
আজকালের খবর/রাশেদুল মিলন