মালদ্বীপে ডায়মন্ড জুবিলি আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে দারুণ লড়াই উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক দল। ম্যাচের শেষ ২৭ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলেও পাকিস্তানকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে রাখেন বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলাররা।
সোমবার (১ জুন) বিকেলে মালদ্বীপের জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি আক্রমণ গড়ে পাকিস্তানের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সবচেয়ে ভালো সুযোগটি আসে মোহাম্মদ মুরশিদ আলীর পায়ে। মোহাম্মদ রাব্বি হোসেন রাহুলের পাস থেকে নেওয়া তাঁর শক্তিশালী শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন পাকিস্তানের গোলরক্ষক ইউসুফ ইজাজ বাট।
বিরতির পর ম্যাচ আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠে। পাকিস্তানও কয়েকটি বিপজ্জনক আক্রমণ চালায়। আলমগীর আলী খানের দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে স্বস্তি পায় বাংলাদেশ। তবে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত আসে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে। বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে পাকিস্তানের গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বাংলাদেশ অধিনায়ক মঞ্জুরুর রহমান। রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখালে ১০ জনের দলে পরিণত হয় বাংলাদেশ।
একজন খেলোয়াড় কমে যাওয়ার পর পাকিস্তান আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু বাংলাদেশের রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষক মোহাম্মদ মাহদী হাসান শ্রাবণ ছিলেন অটল প্রাচীরের মতো। আলী হায়দার শাহের নিশ্চিত গোলের সুযোগ অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় রুখে দিয়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন তিনি। একাধিক আক্রমণ প্রতিহত করে পাকিস্তানের হতাশা বাড়িয়ে দেন বাংলাদেশের এই গোলরক্ষক।
শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত পাকিস্তান গোলের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালালেও বাংলাদেশের সংগঠিত রক্ষণ এবং শ্রাবণের দুর্দান্ত নৈপুণ্যের সামনে তারা সফল হতে পারেনি। ম্যাচজুড়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে গোলরক্ষক মোহাম্মদ মাহদী হাসান শ্রাবণ ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান।
একজন কম নিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা লড়াই করে পাকিস্তানকে রুখে দেওয়া বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। ডায়মন্ড জুবিলি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এই ড্র আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বাংলাদেশ অলিম্পিক দলের। আর তরুণ ফুটবলারদের লড়াকু মানসিকতা প্রশংসা কুড়াবে ফুটবলপ্রেমীদের।
আজকালের খবর/কবির