ডাক্তার রোগী দেখার পূর্বেই রোগীর রোগ নির্ণয়ের জন্য করা হয়েছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেওয়া হয়েছে চিকিৎসা। যখন এ কর্মকান্ড সম্পন্ন তখনও ডাক্তার ওই রোগী থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে।
এমনই ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটকের সামনে ঠিক কুড়ি ফুট দূরত্বে কথামনি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা ৩টার এমন ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের মো. জাহাঙ্গীর (৫০) তীব্র পেটে ব্যাথা নিয়ে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্য সকাল সাড়ে আটটায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সামনে কথামনি ডায়াগনস্টিক সেন্টার আসেন। তখন ডায়াগনস্টিক কর্তৃপক্ষ ৫/১০ মিনিটের ভেতরে ডাক্তার আসতেছে বলে রোগীকে অপেক্ষা করতে বলেন। এরপর শুরু হয় ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষের তালবাহানা, ডাক্তার আসছে-আসছে বলে রোগীর থেকে নেওয়া হয় রক্ত ও প্রসাব। করানো হয় এক্স-রে, রক্ত ও প্রসাব পরীক্ষা আর এ-সবই করছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্মচারী মাহবুবুর রহমান।
এভাবে সময়ক্ষেপণ করে বেলা ৩টার দিকে রোগীকে Andol ও Emistat (8mg) নামে দুটো ইনজেকশন কেনার জন্য পাঠানো হয় পাশের ফার্মেসীতে। তখনও পেটের ব্যাথায় কাতরাচ্ছিলেন জাহাঙ্গীর।
ভুক্তভোগী মো. জাহাঙ্গীর বলেন, গতরাতে পেটের ব্যাথায় একটুও ঘুমাতে পারিন, সারারাত মাটিতে গড়াগড়ি দিয়েছি চিৎকার করে কান্না করেছি। সকাল সাড়ে আটটায় এখানে আসছি এখনো ডাক্তার আসে নাই কিন্তু আমার রক্ত, প্রসাব নিয়ে পরীক্ষা করা হয়ে গেছে। ডাক্তার ৪ টায় আসবেন জানালে সরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতাম কিন্তু তাঁরা আমাদের মিথ্যা বলেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ব্যবসায়ী বলেন, কথামনি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারী মাহবুবের টেকনিশিয়ান সার্টিফিকেট না থাকা স্বত্তেও তিনি নিয়মিত এক্স-রে করেন। এছাড়াও তিনি ডাক্তার সেজে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে থাকন।
ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ নার্গিস আরা স্বপ্না এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ডাক্তারের সাথে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলে রোগীর টেস্ট ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে ডা. মো: সাইফুল ইসলাম শামিম মুঠোফোনে জানান (২৮ এপ্রিল ০৩:০৬ মিনিট), আমি বরিশাল থেকে আসতেছি, আমি ৪ টায় চেম্বার করি এটা সবাই জানে। মিথ্যা বলে সকাল থেকে অসুস্থ মানুষকে বসিয়ে রাখলে এটা মিস লিডিং হয়ে যাচ্ছে। মোবাইলে টেষ্ট ও চিকিৎসা দেওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি রোগীদের সচেতন হওয়ার কথা বলেন।
মোবাইলে তিনি গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ চালিয়ে যেতে বলা হলেও রোগীকে গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ না দিয়ে ব্যাথা নাশক ও বমি বন্ধ হওয়ার ঔষধ দেওয়া হয়েছে। যদিও রোগীর বমি ভাব কিংবা বমি হচ্ছিল না।
এবিষয়ে কথামনি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টেকনিশিয়ান মো. মাহবুবুর রহমান এর মুঠোফোনে (০১৭৭৫৯২০০৩৭) একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রউফ বলেন, কোন রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকের অবর্তমানে ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর্তৃক ওই চিকিৎসকের চিকিৎসাপত্রে পরীক্ষা নিরীক্ষার উপদেশ দেওয়া, চিকিৎসা প্রদান করা এবং ওই রোগীকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে অপেক্ষা করানো গর্হিত অপরাধ। যদি কেউ এধরণের অপরাধ করে থাকেন তাহার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
এবিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন মো. খালিদুর রহমান মিয়া বলেন, একজন চিকিৎসকের চিকিৎসা পত্রে চিকিৎসক ব্যতীত অন্য কারো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া কিংবা ঔষধ লেখা অপরাধ। এরকম হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।
আজকালের খবর/রাশেদুল মিলন