রংপুরের পীরগাছায় এক ব্যবসায়ীর দোকানে সশস্ত্র হামলা, নগদ টাকা লুট ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পীরগাছা থানায় এজাহার দায়েরের পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলন করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী হারুনুর রশিদ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় পীরগাছা উপজেলার পারুল ইউনিয়নের নাগদহ চৌরাস্তা মোড়ে নিজ মুদি ও অনলাইন ব্যাংকিং দোকানে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হারুনুর রশিদ জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নাগদহ চৌরাস্তা মোড়ে মুদি দোকান, মোবাইল রিচার্জ এবং বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। সম্প্রতি এলাকায় হিজবুত তাওহিদকে ঘিরে স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনায় তাকে পক্ষপাতদুষ্ট সন্দেহ করে কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৭ এপ্রিল সকাল আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে তিনি দোকানে বসে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। এ সময় ৬ থেকে ৭টি মোটরসাইকেলে করে আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র, লাঠি ও লোহার রডসহ একদল ব্যক্তি তার দোকানের সামনে এসে অবস্থান নেয়। পরে তারা দলবদ্ধভাবে দোকানে প্রবেশ করে তাকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেয়।
অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে এক আসামী তার কপালে রিভলবার ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করলে অন্যরা দোকানের ক্যাশ ড্রয়ার থেকে ব্যবসার নগদ ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায়। একই সঙ্গে দোকানের বিভিন্ন মালামাল ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করা হয়।
হারুনুর রশিদ আরও জানান, ঘটনার সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় এলাকাবাসী একজনকে আটক করলেও অন্যরা হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি পীরগাছা থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করে এজাহার দায়ের করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, “আমি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে সততার সঙ্গে ব্যবসা করে আসছি। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস এবং আমাকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
এ বিষয়ে পীরগাছা থানার ওসি এ কে এম খন্দকার মুহিব্বুল বলেন, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।