ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)-এর প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, “যেটা সামনে এগিয়ে যায়, সেটাকে কখনো পেছনে টেনে আনা যায় না। ইন্টারনেটের গতি যেমন বাড়ছে, তেমনি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনও আধুনিকতার গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলবে।”
মঙ্গলবার রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবর-এ ধানমন্ডি আন্ডারগ্রাউন্ড কমন এক্সেস নেটওয়ার্কের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির এই অগ্রযাত্রায় ইন্টারনেট এখন আর বিলাসিতা নয়; এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। তাই আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।
প্রশাসক আরও বলেন, শুধু ইন্টারনেট নয়, টেলিফোন ও কেবল টিভি নেটওয়ার্ককেও সমন্বিতভাবে আন্ডারগ্রাউন্ডে নেওয়া প্রয়োজন। পৃথকভাবে এসব সেবা পরিচালনা করলে নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়ে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিত পরিকল্পনায় কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
“ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি” গড়তে আন্ডারগ্রাউন্ড অবকাঠামোর বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে খোলা তারের জটলা নগরের সৌন্দর্য নষ্ট করত। ধানমন্ডিতে এ ব্যবস্থা চালুর ফলে বাসিন্দারা সেই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম ধীরে ধীরে পুরো ঢাকায় সম্প্রসারণ করা হবে।
শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ এলাকায় ফ্রি ইন্টারনেট জোন চালুর প্রস্তাবও দেন তিনি।
ডিএসসিসির ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নগর উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশন সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
এছাড়া ধানমন্ডিকে ঐতিহ্যবাহী আবাসিক এলাকা হিসেবে উল্লেখ করে এর প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ধানমন্ডি লেক-কে বাণিজ্যিক ব্যবহার থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানান এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ এমদাদ উল বারী এবং আইএসপিএবি-এর সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম ভূঁইয়াসহ অন্যান্যরা।
আজকালের খবর/ এমকে