শনিবার ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রযুক্তির বিবর্তনে অস্তিত্ব সংকটে হারিয়ে যাচ্ছে রেডিও, হারিয়ে যাচ্ছে রেডিও’র শ্রোতা
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩১ পিএম   (ভিজিট : ১৭২)
আমার ধারনা গ্রাম বাংলার বাঙ্গালীদের কাছে রেডিও’র পরিচিতি ঘটে ষাটের দশকের প্রথম দিকে। আমরা যখন ছোট তখন মাইক এবং কলের গান বেশ জনপ্রিয় ছিল, মাইকে বা কলের গানে যখন গান বাজতো তখন পাড়ার মানুষ ওখানে গিয়ে হাজির হতো তারা এটাকে আশ্চর্য কিছু মনে করতো। 

ঐ সময়ের সম্পদশালীদের বাড়িতে কলের গান থাকতো। গাবুরা,কয়রা,চালনা নদী দিয়ে লঞ্চ চলতো, লঞ্চে থাকতো মাইক, সেই মাইক থেকে যখন গান ভেসে আসতো তখন নদীর পাড়ে উৎসুক জনতার এক অপরূপ দৃশ্য দেখা যেতো।

বিকেল হলেই নদীর দিকে নজর থাকতো লঞ্চ দেখতে এবং গান শুনতে। এরপর ধীরে ধীরে রেডিও’র আগমন ঘটলো বিলাশী ও সম্পদশালীর কাছে হয়ে উঠলো রেডিও সামাজিক মর্যাদার প্রতীক। এরপর ১৯৬৫ সনের হিন্দুস্হান/পাকিস্তান যুদ্ধের সময় খবর শোনার জন‍্য অনেকের কাছে প্রয়োজনীয় হয়ে উঠতে লাগলো। তখন মানুষের বিনোদনের জন‍্য ছিল যাত্রা পালা, সার্কাস এবং রেডিও। একপর্যায়ে রেডিও হয়ে উঠলে বিয়ের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপহার। বিয়েতে সাইকেল, ঘড়ি ও রেডিও না থাকলে অনেক বিয়ে ভেঙ্গে যেতো।

নতুন জামাই শ্বশুরের দেওয়া রেডিও বাজাতে বাজাতে হেলে দুলে শ্বশুর বাড়ি যেতো, পাড়া প্রতিবেশীরা সে দৃশ্য দেখতো। রেডিও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠলো সত্তরের দিকে, বিনোদনের পাশাপাশি খবর শোনার আগ্রহ মানুষের মাঝে বাড়লো, সে কারণে, পাকিস্তান রেডিও (ঢাকা থেকে প্রচারিত), আকাশবানী কোলকাতা, গোহাটি এর পাশাপাশি বিবিসি এবং ভয়েস অব আমেরিকার খবর বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠলো।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানুষ রেডিও’র কাছে হুমড়ি খেয়ে পড়তো খবর শোনার জন‍্য। তখন অনেক পাড়াতে রেডিও থাকলেও থ্রি ব‍্যান্ড রেডিও ছাড়া বিবিসি ও ভয়েস অফ আমেরিকার খবর শোনা যেতো না, তাই খবর শোনার জন‍্য এক পাড়ার মানুষ অন‍্য পাড়ায় যেতো। 
স্বাধীনতার পরে ধীরে ধীরে রেডিও’র দাম মানুষের নাগালের ভিতর আসলো, চাহিদাও বেড়ে গেল। ষাট থেকে সত্তরের দশকে মহকুমা শহরগুলিতে দুই একটি সিনেমা হল গড়ে উঠে, গ্রামের মানুষ কোন প্রয়োজনে শহরে আসলে সিনেমা দেখার জন‍্য হলে ঘুড়তো, বিনোদনী মন নিয়ে সিনেমার গান আপন মনে গাইতে গাইতে গাইতে চলে আসতো। যুবকরা রেডিও’র বিজ্ঞাপনে জানার চেষ্টা করতো হলে কোন বই লেগেছে। আশির দশকে ডয়চে ভেলে, রেডিও পিকিং, রেডিও তেহরান মানুষের কাছে পরিচিতি পেলো। 

জাতীয় নির্বাচন শেষে ভোট গণনার সময় মানুষ রাত জেগে নির্বাচনের খবর শুনতো, খবরের সাথে থাকতো জনপ্রিয় নাটক মধুমালা, বেদের মেয়ে এবং জনপ্রিয় শিল্পী আব্দুল আলিম, আব্বাস উদ্দিন, রুনা লায়লা, নিনা হামিদ, শাহনাজ রহমতুল্লাহ, আব্দুল জব্বারের মতো শিল্পীদের গান। 

আশির মাঝামাঝি ধীরে ধীরে গ্রামাঞ্চলে টেলিভিশনের আবির্ভাব ঘটে, তখন ব‍্যাটারি ছাড়া টিভি দেখা সম্ভব ছিল না, তাই রেডিও চাহিদা তখনও যতেষ্ট ছিল। যখন গ্রামাঞ্চলে বিদ‍্যুৎ আসা শুরু করলো তখন টেলিভিশন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠলো, তবে টেলিভিশনে শুধু বাংলাদেশের চ‍্যানেল দেখা যাওয়ায় মানুষের খবর শোনার চাহিদা রেডিও’র মাধ্যমে পূরণ করতে হতো। নব্বই এর গণআন্দোলন পর্যন্ত নিরপেক্ষ খবরের জন‍্য রেডিওতেই মানুষের আস্থা ছিল।

নব্বইয়ের মাঝামাঝি কিছু বেসরকারি টিভি চ‍্যানেল চালু হলে রেডিও’র চাহিদা কমতে থাকে। ধীরে ধীরে রেডিও চাহিদা কমতে থাকায় বিবিসি’র মতো প্রচার মাধ‍্যম বন্ধ হয়ে যায়। তবে দেশের আনাচে কানাচে এখনো রয়েছে রেডিও’র অনেক শ্রোতা।গড়ে উঠেছে রেডিও শ্রোতাদের সংগঠন। যারা এখনো রেডিও’কে মানুষের মাঝে ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

আজকালের খবর/ এমকে









Advertisement
সর্বশেষ সংবাদ
বিজয়নগরে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের শীর্ষ সদস্য নাজমুল গ্রেপ্তার
যে ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি সেটাকে রিভাইভ করা সহজ নয়: অর্থমন্ত্রী
উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে নতুন উদ্যমে কাজ করছে দেশবন্ধু গ্রুপ
দুই প্রজন্মের কন্ঠে ‘বাবা ছেলের গান’
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft